অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আদর্শ হতে পারে উহান: ব্লুমবার্গ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ২২:১৬

করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়ে পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতি। মহামারির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বেশির ভাগ ব্যবসা-বাণিজ্য, ভ্রমণ নিষিদ্ধ অধিকাংশ দেশে। এমন অভূতপূর্ব সংকট কাটানোর পথ খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা। সেক্ষেত্রে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় সবার আদর্শ হতে পারে উহান।

সম্প্রতি করোনার উত্স এ শহরটিতে অর্থনৈতিক গতি ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

অর্থনৈতিক কার্যক্রম ফের চালুর তিন মাস পর উহানের বর্তমান অবস্থা আশা দেখাচ্ছে সারা বিশ্বকে। গত ৩১ ডিসেম্বর প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর ৮ এপ্রিল লকডাউন তুলে নেওয়া ছিল শহরটির জন্য বেশ কঠিন সিদ্ধান্ত। অবশ্য এতেই বোঝা গেছে, মহামারি নিয়ন্ত্রণে নিজেদের দক্ষতার ওপর তারা কতটা আত্মবিশ্বাসী। লকডাউন তোলার পর থেকেই উহানে সামাজিক দূরত্বের কড়াকড়ি এবং শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়ে উঠেছে অনেকটাই নিয়মিত কার্যক্রম। তবে, গত মে মাসে সেখানে হঠাত্ করে আবারও সংক্রমণ বাড়তে শুরু করলে ফের চাপে পড়ে কর্তৃপক্ষ। ফলে ফিরিয়ে আনা হয় নিষেধাজ্ঞা, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে নমুনা পরীক্ষা করা হয় শহরটির গোটা ১ কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার। এরপর থেকে সেখানে আর করোনা ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। তবে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালুর পরও গত মে মাসে উহানে শিল্পোত্পাদন, খুচরা পণ্য বিক্রি, রপ্তানি সবকিছুই ছিল গত বছর একই সময়ের তুলনায় অনেক কম। বহু শিল্প-কারখানা, অফিস দ্রুতই পুরোদমে কাজে ফিরলেও ভোক্তা চাহিদা বাড়ার গতি বেশ কম। ৭৬ দিনের লকডাউনের পর বাইরে খাওয়া-দাওয়া বা শপিংয়ের অভ্যাস বদলে গেছে অনেকেরই।

চায়না মিনশেং ব্যাংকিং করপোরেশনের গবেষক ওয়েন বিং বলেন, উহানের অর্থনীতির গতিপথ থেকে দেখা যায়, ভাইরাস-পরবর্তী পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলবে দুই পথে। নতুন করে সংক্রমণের ছোট ছোট ঘটনাগুলো ঘটতেই থাকবে এবং এতে সম্ভবত বৃহত্তর অর্থনীতির ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না।

তার মতে, উহানে সম্প্র্রতি অতিবৃষ্টির কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া। চীনের দক্ষিণাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৩ কোটি মানুষ। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউয়ান।

উহান মেট্রোতে যাত্রীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়লেও তা এখনো স্বাভাবিকের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। করোনা সংক্রমণের ভয়ে অনেকেই গণপরিবহন এড়িয়ে ব্যক্তিগত গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন। অবশ্য এর কারণে গাড়ির বাজারে চাহিদা বেড়েছে অনেকটাই। ছাড়ের ছড়াছড়ি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে উহান কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু প্রণোদনা প্যাকেজ চালু করেছে। ৫০০ মিলিয়ন ইউয়ান শপিং ভাউচার ছাড়া হয়েছে, অনেক বাড়িতেই নগদ অর্থ সরবরাহ করা হয়েছে, ট্যাক্স ছাড় দেয়া হয়েছে চলতি বছরের শেষ নাগাদ। বিনিয়োগ টানতে উহান যে প্রদেশের রাজধানী সেই হুবেইতে মুক্ত-বাণিজ্য অঞ্চল বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে চীন সরকার।