একনেকে পাস হলেও প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ২২:৪৭

বাংলাদেশ রেলওয়ের বহু কাঙ্ক্ষিত আখাউড়া-সিলেট ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চার বছর আগে প্রকল্পটির উদ্যোগ নেওয়া হলেও অজ্ঞাত কারণে এটির বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, ডিপিপি, চীনা কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা শেষে একনেকে পাশ হলেও বাংলাদেশ রেলওয়ে এখনো প্রকল্পটির কাজই শুরু করতে পারেনি। উলটো এত দিন পর প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ রেলপথ মন্ত্রণালয়। তবে এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রেলপথমন্ত্রী।

জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের আখাউড়া-সিলেট সেকশনের মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তর’ শীর্ষক  প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন          দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বৈঠকের বরাত দিয়ে রেলওয়ে মহাপরিচালকের কাছে রেল মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতাসহ ১১টি কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়ায় এর কাজ আটকে গেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের এ চূড়ান্ত সময়ে নতুন করে চিঠি দিয়ে প্রকল্পের যৌক্তিকতা জানতে চাওয়া আনওয়ান্টেড। এটি আমরা আশা করিনি। তবে নতুন করে দেওয়া সব প্রশ্নের জবাব দিতে রেল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। অতি দ্রুত এসব প্রশ্নের জবাব প্রদান শেষে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’   

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে আখাউড়া-সিলেট সেকশনের বর্তমান মিটারগেজ লাইনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই লাইনে একের পর এক দুর্ঘটনার পর রেল মন্ত্রণালয় গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটি লাইনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে রিপোর্ট প্রদান করে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এ লাইনের অধিকাংশ ব্রিজ ও কালভার্টের মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তাই এ লাইনটি সংস্কার করা অতি জরুরি। এমন প্রেক্ষাপটে সরকার লাইনটি ডুয়েলগেজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। চীনের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার।

প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে ইতিমধ্যে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে দেশটির এক্সিম ব্যাংক প্রকল্পের তহবিলের অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের এমন চূড়ান্ত পর্যায়ে হঠাত্ প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় রেল মন্ত্রণালয় সংকটে পড়েছে। কারণ, প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন না হয়ে পিছিয়ে গেলে খেসারত দিতে হবে সাধারণ জনগণকে।

জানা গেছে, সম্প্রতি রেলওয়ের মহাপরিচালককে পাঠানো এক চিঠিতে এই প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব। চিঠিতে কী কারণে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে জানতে চেয়ে ১১টি প্রশ্নের অবিলম্বে জবাব পাঠাতে বলা হয়েছে। চিঠিতে বর্তমান মিটারগেজের পাশাপাশি আরেকটি ডুয়েলগেজ স্থাপনে সমস্যা কোথায়, জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ-জামালপুর ডুয়েলগেজ স্থাপনের চেয়ে এই প্রকল্পের খরচ দ্বিগুণ হওয়ার কারণ কী, মিটারগেজ লাইন কবে স্থাপন হয়েছে এবং এর লাইফটাইম কত, ডুয়েলগেজ করতে কত সময় লাগবে এবং কত ব্যয় হবে, চীন, ভারত ও বাংলাদেশে প্রতি কিলোমিটার রেললাইন স্থাপনে খরচ কত—এমন ১১টি প্রশ্ন জানতে চাওয়া হয়েছে।    এদিকে এই চিঠির প্রেক্ষিতে রেল বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হলে প্রকল্পের কাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। তাদের মতে, যে কোনো প্রকল্পের সমস্যা থাকলে তা জানতে চিঠি না দিয়ে রেল মন্ত্রণালয় বা রেল বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা যেত। কী কারণে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে, কীভাবে নানা পর্যায় অতিক্রম করে এটি একনেকে পাশ হয়েছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া তেমন কঠিন কিছু নয়।

রেলসূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। ১৭০ কিলোমিটার এই ডুয়েলগেজ রেললাইন স্থাপনে ২০০টি ছোট-বড় ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ করা হবে এবং রেল চালু রাখার জন্য বাইপাস নির্মাণ করা হবে। তাই প্রকল্পের খরচ অন্য প্রকল্পের তুলনায় কিছুটা বেশি।