জাপার এমপি সোহেল রানার বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ে জমি দখলের অভিযোগ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ২২:৪৯

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা) আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল পঞ্চগড় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের নালাগঞ্জ গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ও সদর উপজেলা পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান মরহুম মাহাবুবার রহমান দুলুর পরিবারের সদস্যরা।

মরহুম মাহাবুবার রহমান দুলুর স্ত্রী মমতাজ দৌলতানা সংবাদ সম্মেলনে ভাই ময়নুর রহমান প্রধান তরু, মাহশিকুর রহমান টুকু, মসলেহার রহমান ফুলু, ভাতিজা মোজাফর রহমানের পক্ষে মখলেছুর রহমান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা এমপি সোহেল রানাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তাদের বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া ও হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় একাধিক জিডি ও মামলা করা হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৬০ সালের ২০ জুলাই পাঁচ জন অংশিদারের সমন্বয়ে ‘গয়েশপুর এগ্রিকালচারাল ফার্ম কোম্পানি লিমিটেড’ নামে একটি ফার্ম চালু করা হয়। ম্যানেজিং পার্টনার ছিলেন মশিউর রহমান। ১৯৬২ সালে ফার্মটি আটটি খতিয়ানে এসএ রেকর্ড হয়। সেই থেকে খাজনা প্রদান করে ভোগদখল করে আসছে। কিন্তু ২০১০ সালে একই এলাকার লোকমান হোসেন গং জাল কাগজপত্র তৈরি করে গয়েশপুর এগ্রিকালচারাল ফার্মের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা করেন।

এনিয়ে এখনো মামলা চলমান অবস্থায় লোকমান হোসেন গং ভুল দাখিলা, ভুল ওয়ারিশান ও ভুল খতিয়ান উপস্থাপন করে ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর ১০ একর ২৫ ডিসিমল জমি এমপি সোহেল রানার কাছে বিক্রি করেন। মামলাটি চলমান অবস্থায় গত ২৮ মে, ৩ জুন ও ৬ জুলাই এমপি সোহেল রানা ও তার লোক স্থানীয় বছির আহমেদ খান, তাহেরুল ইসলাম, রাশেদুজ্জামান, জাকিউল, মজিদুর রহমান ও ময়ফুল ইসলাম প্রমুখ জোরপূর্বক জমিতে প্রবেশ করে জমি দখলে নিয়ে চাষাবাদ করছেন। 

বিষয়টি জানার জন্য লোকমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য সোহেল রানা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ১০ বছর আগে তিনি ওই জমি কিনেছেন। জমি নিয়ে শরিকদের মধ্যে মামলা চলছে। মামলায় তিনি কোনো অংশীদার নন। তার কেনা জমি তিনি দখল নিতেই পারেন। তবে যাদের কাছ থেকে জমি কিনেছেন তারা যদি জমির অধিকার না পান সেক্ষেত্রে জমি ছেড়ে দেবেন বলে জানান এমপি।