করোনার নমুনা পরীক্ষার নামে প্রতারণার অভিযোগে দেশজুড়ে আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে গত পাঁচ দিনেও গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তাকে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে। এদিকে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা সাহেদ প্রতারণা করেছেন নিজের বাবার অসুস্থতা নিয়েও। জানা গেছে, নেগেটিভ সনদ দেখিয়ে করোনা আক্রান্ত বাবাকে ভর্তি করান নিজের হাসপাতাল রেখে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে পরীক্ষায় তার বাবার করোনা পজিটিভ আসে। একপর্যায়ে মারা যান সাহেদের বাবা সিরাজুল করিম।
জন্মদাতা বাবার অসুস্থতা নিয়ে এমন প্রতারণার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাহেদের বাবা গত বৃহস্পতিবার রাতে মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যালে মারা যান। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুরুতে বাবার খোঁজ নিলেও রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর আর বাবার খোঁজ নেননি সাহেদ। পরে অবশ্য তার বাসার কেয়ারটেকার ও গাড়িচালককে পাঠিয়ে মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সিরাজুল করিমকে ভর্তি করাতে গিয়ে সাহেদের প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, গত ৪ জুলাই সিরাজুল করিমকে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করেন সাহেদ। সিরাজুল করিমের বয়স প্রায় ৭০ বছর। ভর্তি করার সময় সাহেদ জানান তার বাবার কোভিড-১৯ আক্রান্ত নন।
বাবার করোনা পরীক্ষার ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানিয়ে ডা. আশীষ জানান, 'আমাদের বলা হয়েছিল, এর আগে তিনটি পরীক্ষায় সিরাজুল করিমের কোভিড-১৯ নেগেটিভ আসে। তিনটি সনদও দেখানো হয়। কিন্তু তার লক্ষণ দেখেই মনে হয়েছে তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত। আমাদের এখানে পরীক্ষায় তার কোভিড-১৯ পজিটিভ আসে।'
হাসপাতালটির চিকিত্সক আজিজুর রহমান জানান, সাহেদের বাবার করোনা পজেটিভ আসলে তাকে আমরা ফোন দিই। আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, যেহেতু আপনার হাসপাতাল কোভিড রোগীদের জন্য, সেখানে আপনার বাবাকে নিয়ে যান। কিন্তু সাহেদ অপারগতা প্রকাশ করেন। বলেন তার ওখানে চিকিত্সার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
ভর্তির দুই দিন পর সিরাজুল করিমকে আইসিইউতে নেওয়া হয় জানিয়ে ডা. আশীষ বলেন, তার ফুসফুসে সংক্রমণ ছিল। অবস্থা খারাপ হলে দুই দিন আগে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার মারা যান তিনি। সাহেদের ফোন নম্বর বন্ পাওয়ায় তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের লোকজন। পরে শুক্রবার সকালে সাহেদের কেয়ারটেকার এসে লাশ বুঝে নেয়। সেদিনই আজিমপুর কবরস্থানে সাহেদের বাবাকে দাফন করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ৬ জুলাই পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতাল সিলগালা করে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ১৭ জনের বিরু"ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে।
সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ
উত্তরায় রিজেন্টের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ সাহেদের পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার র্যাব-পুলিশের যৌথ অভিযানে পাসপোর্টটি জব্দ করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানে তারা করোনা পরীক্ষা ছাড়াই যে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করত, সেই কম্পিউটারের মেইন হার্ডডিস্ক রান্না ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞসাবাদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এটা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অফিসের নথিপত্রে চেক জালিয়াতির আরো ২০টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা সিএমএম এ এই মামলাগুলো চলমান। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট ৫৬টি মামলা রয়েছে। অপরদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনা রোগীদের জন্য একটি ডায়ালাইসিসি মেশিন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেটি তারা সংযুক্ত না করে বিক্রি করে দিয়েছে।
