‘অ্যালা মুই কীসের তলোত থাকিম’

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২০, ২২:৫৪

 ‘ঘরবাড়ি কিছুই আছিলো না, ছয় মাস হলো শেখের বেটির দেয়া ঘরোত উঠছিনু বাহে।  সেটাও আজ নদীত চলি গেলো। জাগা-জমি কিছুই নাই, মুই অ্যালা কিসের তলোত থাকিম’।—এভাবেই অশ্রুভেজা চোখে কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের অর্জুন গ্রামের আবুল হোসেন প্রামাণিক (৫০)। শনিবার ভোর  থেকেই তিস্তা নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙনে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে সদ্যনির্মিত প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দুর্যোগ সহনীয় বাড়িটি ভাঙনের কবলে পড়ে। ঐ গ্রামের জাহেরুল হক, রবুল হোসেন, দেলদার হোসেন, কছিরউদ্দিন, সামেদ জানান, তিস্তার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোর  থেকেই নিমিষে আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যায়। এছাড়াও ঐ ইউনিয়নের কর্পূরা, চর রতিদেব, চর কর্পূরা গ্রামের প্রায় ২০ পরিবারের বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। এদিকে তিস্তা নদীর পানি গতকাল কাউনিয়া পয়েন্টে বিপত্সীমার ২ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি ব্রিজ পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ফলে নদী অববাহিকার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানিবন্দি এসব এলাকার মানুষ স্যানিটেশনসহ গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে দলদলিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান মুন্সির বাড়িসহ কর্পূরা করিমীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠুটাপাইকর উচ্চবিদ্যালয়, ঠুটাপাইকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র, ঐ ইউনিয়নের অর্জুন গ্রামের নালারচর সোলেমানীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদসহ কয়েক শ ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি।

দলদলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান মুন্সি বলেন, আমার বাবা আব্দুল করিম মুন্সি ও তিন মায়ের মধ্যে বাবা ও এক মায়ের কবর শুক্রবার অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছি। বাকি দুই মায়ের কবরও যেকোনো মুহূর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। তিস্তার ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। অপরদিকে তিস্তা অববাহিকার থেতরাই ইউনিয়নের পাঁকারমাথা, চর গোড়াইপিয়ার, হোকডাঙ্গা, মাঝিপাড়া, ডাক্তারপাড়া গ্রাম; গুনাইগাছ ইউনিয়নের নন্দু নেফড়া, টিটমা, সন্তোষ অভিরাম, কাজিরচক, সুখদেব গ্রাম ও বজরা ইউনিয়নের সাদুয়া দামারহাট, পশ্চিম বজরা, সাতালস্কর, বগুলাকুড়া, চাদনী বজরা, চর বজরা গ্রামের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও প্রচুর আবাদি জমি গত কয়েকদিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।