শবরীমালায় আরো এক নারীর প্রবেশ, কেরালায় উত্তেজনা

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫১

বিন্দু, কনকদুর্গার পর শশীকলা। বৃহস্পতিবার রাতে শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করলেন ছয়চল্লিশ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কার এই মহিলা নারী। রাজ্য পুলিশের তরফে তার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে মাথায় পূজোর সামগ্রী নিয়ে মন্দিরে ঢুকছেন শশীকলা।

মন্দিরে ঢোকার আগে শশীকলা সাংবাদিকদের কাছে জানান, মূল মন্দির থেকে মাত্র ১৮ পা দূর থেকেই তাকে আটকে দেয় পুলিশ। যদিও পুলিশ পরে জানিয়েছে, শশীকলা মন্দিরে ঢুকেছেন। তিনি এও জানিয়েছিলেন, মন্দিরে ঢুকতে গেলে যা যা নিয়ম দরকার সবই তিনি পালন করেছেন। ৪৮ দিন উপবাস করেছেন। তার সঙ্গে থাকা মেডিক্যাল সার্টিফিকেটও দেখান শশীকলা। জানান, সার্টিফিকেটে পরিষ্কার লেখা আছে তার শরীর থেকে ইউটেরাস বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা

সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল, সব বয়সের মহিলারাই আয়াপ্পা স্বামীর মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সরব হন আয়াপ্পা স্বামীর ভক্তরা। এদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপিসহ রাজ্যের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। নারীরা বেশ কয়েকবারই শবরীমালায় প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়ে ফিরে আসেন। এক মহিলা সাংবাদিকও মন্দিরে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের হাতে হেনস্থা হন।

এরপর পুলিশি প্রহরায় নারীদের মন্দিরে ঢোকানোর ব্যবস্থা করে রাজ্য সরকার। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। মন্দির নিয়ে উত্তেজনার পারদ দিন দিন চড়ছিল। সেই উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় বুধবার। ওই দিন ভোরে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে গোপনে বিন্দু ও কনকদুর্গা নামে দুই মহিলা মন্দিরে প্রবেশ করেন। মন্দির থেকে বেরিয়ে তারা জানান, মন্দিরের ভিতরে কেউ তাদের বাধা দেয়নি। যত গণ্ডগোল মন্দিরের বাইরেই।

দুই মহিলার মন্দিরে প্রবেশের খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন আয়াপ্পা স্বামীর ভক্তরা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তাণ্ডব চলে। গাড়ি ভাঙচুর, দোকানে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া, পাথর ও বোমা ছোড়ার মতো ঘটনাও ঘটে। পরস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ নামে। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের। ৭৫০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। আহত হন অনেকে। মন্দিরে বিন্দু ও কনকদুর্গার প্রবেশের ঘটনায় আগুন জ্বলেছে কেরালায়। এবার শশীকলার প্রবেশ সেই বিক্ষোভের আগুনে আরো ঘি ঢালবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।