মহাকাশ নিয়ে এত মরিয়া কেন চীন?

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৩

মহাকাশ জয়ের গল্পে অন্য দেশগুলোর তুলনায় চীন তুলনামূলক ভাবে নতুন। কিন্তু অরবিটে প্রথম নভোচারী পাঠানোর মাত্র ১৫ বছরের মধ্যেই চীন বিস্ময় ঘটিয়েছে। সমপ্রতি চাঁদের দূরতম অংশে সফলভাবে ল্যান্ড করেছে চীনের একটি স্পেসক্রাফট। খবর বিবিসি

আসন্ন দশকে নতুন একটি মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করার কথা ভাবছে চীন। পাশাপাশি, চাঁদে একটি বেস ক্যাম্প স্থাপন এবং মঙ্গলে অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে দেশটি। চাঁদের উল্টোপিঠে নামলো চীনের নভোযান।

যুক্তরাজ্যের রয়্যাল অ্যারোনোটিকেল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক কেইথ  হেওয়ার্ড বলছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, চীনেরও একই অভীষ্ট।

প্রথমত, দেশটির সেনাবাহিনী এটি চেয়েছিল। কারণ এই কর্মসূচিতে যত অর্থ খরচ হয়েছে, তাদের আগ্রহ ছাড়া তার অর্ধেকও পাওয়া সম্ভব হতো না। দ্বিতীয়ত, ক্ষমতা ও সামর্থ্য প্রকাশের জন্য এটি একটি দারুণ উপায়। তৃতীয়ত, সন্ধান মেলেনি এমন অমূল্য বস্তু বা এনার্জি বা জ্বালানির সন্ধান।

মূলত এই তিন কারণেই মহাকাশ গবেষণায় এতো অর্থ, সময় ও মনোযোগ খরচ করছে চীন।

চীনের এই মহাকাশ গবেষণা কর্ম নিয়ে চাপ বোধ করছে না যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ২০১৮ সালে আগস্ট মাসে স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস স্পেস ফোস-এর কথা। চীনের সর্বশেষ সাফল্য ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে আমেরিকার বিশেষ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবার কারণ নেই বলে মনে করেন অধ্যাপক হেওয়ার্ড। কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখনো মহাকাশ গবেষণার জন্য প্রচুর খরচ করছে। শুধু নাসার মাধ্যমেই যে এই খরচ হচ্ছে তা নয়। পেন্টাগনও ব্যাপক অর্থ খরচ করছে এই খাতে।

কিন্তু এটি কি আসলেই মহাকাশে মানুষের নতুন প্রতিযোগিতার শুরু? কারণ চাঁদে চীনের স্পেসক্রাফট পৌঁছানোর মাত্র কদিন আগেই নাসা আরেকটি সফল অভিযানের মাধ্যমে বরফ-ঢাকা এক নয়া দুনিয়ার খবর এনেছিল। ঠিক এভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে বিষয়টিকে দেখছেন না অধ্যাপক হেওয়ার্ড।

ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ইন্টারন্যাশনাল লুনার এক্সপ্লোরেশন ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বার্নাড ফোয়িং বলছিলেন, যে কোনো ধরনের অগ্রগতি বৃহদার্থে পৃথিবী বাসী সকলের জন্যই কল্যাণের। বার্নাড ফোয়িং বলছিলেন, মহাকাশ গবেষণায় চীন অগ্রগতি দেখিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজের আগ্রহও প্রকাশ করেছে। তবে, সব দেশ চীনের সাথে মিলেমিশে কাজ করতে পারলেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা সহজ হবে না বলেই মনে করেন তিনি।

কারণ দ্বিপাক্ষিক ভাবে কারো সঙ্গে নাসা কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধ রয়েছে। তাই, এক্ষেত্রে কিছু করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের অনুমোদন লাগবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্পেস পলিসি ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা জন লগসন বলছিলেন, চীন আসলে কারো সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে মহাকাশ গবেষণা করছে না। বরং নিজেদের নিজস্ব আকাঙ্খা থেকেই চীন এতো কিছু করছে।

চীনের মহাকাশ গবেষণা প্রোগ্রামে চীনা পৌরানিক কাহিনির অনেক উপাদান রয়েছে। যেমন ম্যাগপাই ব্রিজ হচ্ছে চীনের রিলে স্যাটেলাইটের নাম। চীনাদের এইসব নামের পেছনেও রয়েছে দারুণ সব গল্প।

২০১৩ সালে বিবিসির সাথে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে অধ্যাপক ওইয়্যাঙ নিজেও চীনের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা বলেছিলেন। ভবিষ্যতের মানুষের জন্য যত এনার্জি বা জ্বালানির প্রয়োজন হবে সেটিরো হয়তো সন্ধান মিলতে পারে মহাকাশে। সুতরাং সেটি খোঁজার জন্যে চীন প্রচেষ্টা চালাবে।