আক্রান্ত ৯৩০, বিসিক শিল্পনগরীতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছেই। সরকার ঘোষিত টানা ১৫ দিন ‘রেড জোন’ বাস্তবায়ন সত্ত্বেও কমছে না সংক্রমণ। জেলার ছয় উপজেলা মিলে বর্তমানে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৩০ জন। এর মধ্যে ১৯ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারীর কর্মক্ষেত্র কুষ্টিয়ার বিসিক নগরীর কারখানাগুলো সংক্রমণের হটস্পট বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া পৌরসভা ও ভেড়ামারা পৌর এলাকাসহ সেখানকার দুটি ইউনিয়ন সরকার ঘোষিত ‘রেড জোনের’ আওতায় আসে। টানা ১৫ দিন লকডাউন শেষে গত ৭ জুলাই ঐ রেড জোনের লকডাউন প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু লকডাউন সত্ত্বেও জেলায় ঠেকানো যায়নি করোনা সংক্রমণ। শনাক্ত রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছেই। করোনা কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, জেলায় বর্তমানে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৩০ এবং করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। মৃতদের মধ্যে কুষ্টিয়া সদরে ১৩ জন, কুমারখালীতে চার জন, ভেড়ামারায় একজন ও দৌলতপুরে একজন। কুষ্টিয়া ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এখন সংক্রমিত রোগী ধারণের ঠাঁই নেই। বিসিক শিল্পনগরীতে চালু শিল্প কারখানায় কর্মরত প্রায় ১৩/১৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা যথাযথ অনুসরণ না করার অভিযোগ রয়েছে। শিল্পনগরীর ৮/১০টি বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হলেও কারখানা চত্বরে গঠন করা হয়নি আইসোলেশন সেন্টার কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের মেডিক্যাল টিম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, চাকরিরক্ষার্থে করোনা উপসর্গ আছে এমন কেউ কেউ কারখানায় কর্মরত থাকায় অন্যদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক। এদিকে অরক্ষিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও কর্মচারী মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ কুষ্টিয়া জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক পলান বিশ্বাস বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে শ্রমিক কর্মচারীর সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতসহ মৃত? কর্মচারীদের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার এএইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, জনসচেতনার অভাবসহ সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা না মানার কারণে জেলায় করোনা সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণসহ সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিআরবি গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মো. মজিবর রহমান জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শ্রমিক-কর্মচারীরা কারখানায় কাজ করছেন। এছাড়া আক্রান্তরা যথানিয়মে ‘হোম আইসোলেশনে’ রয়েছেন বলে তিনি জানান।
