বিশ্বপ্রবাহ ডেক্স
ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন দ্বীপ বালি করোনা ভাইরাসের জন্য তিন মাস বন্ধ থাকার পর ৯ জুলাই পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও আটকেপড়া বিদেশি পর্যটকরা অবকাশ যাপনের জন্য সেখানে যেতে পারবেন। সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে নতুন বিদেশি পর্যটক যাওয়া আরম্ভ হবে। বালি দ্বীপ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। মহামারির জন্য এমনিতেই পর্যটকের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। তারপর এপ্রিল থেকে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে অবকাশ দ্বীপটিতে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অন্য দেশের মতো ইন্দোনেশিয়ায় জনসমাগমের জায়গাগুলোর ওপর আরোপ করা হয়েছিল বিধিনিষেধ। বালির সব দোকানপাট, বার, রেস্তোরাঁসহ বহু স্থাপনা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। থমকে গিয়েছিল ৪০ লাখ মানুষের দ্বীপটি। ইন্দোনেশিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও এ দ্বীপের বাসিন্দাদের বেশির ভাগ হিন্দু।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লোক সমাগমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও হোটেল, রেস্তোরাঁ ও সৈকতে যথারীতি করোনা সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো বহাল থাকবে। আগস্টের প্রথম থেকে ইন্দোনেশিয়ার অন্য অংশের লোকজন সেখানে যেতে পারবে। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে সেখানে শুরু হবে বিদেশি ফ্লাইট। অন্য অনেক দেশের মতো মহামারিতে ইন্দোনেশিয়ার পর্যটন খাতকেও মাশুল গুনতে হয়েছে। শ্বেত বালুর সৈকতের জন্য খ্যাতি রয়েছে বালির। ২০০২ সালের অক্টোবরে সন্ত্রাসী হামলায় ২০২ জন নিহত হওয়ার পর পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছিল বালি। নিহতদের বেশির ভাগ ছিলেন বিদেশি পর্যটক। এরপর দুই দশকে বালি আগের সেই অবস্থায় গিয়েছিল যখন পর্যটকে লোকারণ্য থাকত দ্বীপটি। করোনা মহামারির আগ পর্যন্ত প্রতি বছর বালি দ্বীপে ৫০ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটকের সমাগম ঘটত। এ বছর মহামারির ঠিক আগে আসা ৭ হাজার বিদেশি ও ১৬ হাজার দেশীয় পর্যটকরা বালি দ্বীপে আটকা পড়েন। বিদেশি পর্যটকদের ভিসার মেয়াদ অবশ্য বিশেষ বিবেচনায় বাড়ানো হয়েছে।
