অজিত মনি দাস
এশিয়ার দুই বৃহত্ শক্তিধর ভারত-চীনের রেষারেষি সম্পর্ক নতুন না, ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ, পালটা পালটি মন্তব্য লেগেই আছে। ভারত চীনকে হুঁশিয়ারি দিলেই চীন সরকার মনে করিয়ে দেয় বাষট্টির যুদ্ধের কথা। বাষট্টির যুদ্ধে লাদাখের আকসাই চীন ও পার্শ্ববর্তী এলাকা নিজেদের দখলে নেয় চীন সরকার। পাকিস্তান মিত্রতা বাড়ায় চীনের সঙ্গে। লাদাখ যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণ অমীমাংসিত মানচিত্র, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত যে অঞ্চল দাবি করে, চীন সরকার তা মানতে নারাজ। বিরোধটা সেখানেই। সীমান্ত রেষারেষির সূত্র ধরে, সাধারণ ভারতীয়রা অর্থনৈতিক বয়কট করার ডাক দেয় ও বিভিন্ন সংস্থা চাইনিজ পণ্য বন্ধ করার আহ্বান জানায়। মোদি সরকার আমদানি কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন থেকে ভারতের বিচ্ছিন্ন হওয়া কঠিন। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট সূত্রে, ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম আমদানি চীন থেকে আসে। অর্থাত্, গাড়ি এবং সেলফোন চীন থেকে আমদানি করা যন্ত্রাংশ দিয়েই তৈরি করা হয়, এমনকি ভারতীয় সৈন্যদের ব্যবহূত বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের জিনিসপত্রও আমদানি করা হয় চীন থেকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ১ লাখেরও বেশি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট তৈরির একটি বড় চুক্তিতে ভূষিত হয় এসএমপিপি সংস্থা ২০১৮ সালে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রকে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস সি কানসাল বলেছেন, সংস্থাটি চীন থেকে পণ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। ২৯ জুন পিআইবির এক টুইট বার্তায় জানায়, চীনা ৫৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে ভারত। এতে টিকটকের মতো জনপ্রিয় অ্যাপ হুমকির মুখে পড়বে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, টিকটকের ২ বিলিয়ন ডাউনলোডের ৩০ শতাংশই ভারতে এবং টিকটকের জমজমাট ব্যবসা করার লক্ষ্যে ভারতীয় ১৫টি আঞ্চলিক ভাষা অন্তর্ভুক্ত করেছিল টিকটক প্রস্তুতকারক টেক সংস্থা হাইট ড্যান্স। অন্যদিকে কাঁচামাল, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম, পারমাণবিক চুল্লি, জৈব এবং অজৈব রাসায়নিক সারসহ বিভিন্ন পণ্য চীন থেকে আমদানি করে ভারত। বিশ্বব্যাপী জেনেরিক ওষুধ শিল্পের অন্যতম ভারতের ফার্মাসিউটিক্যালস খাতও চীনের ওপর নির্ভরশীল। ওষুধ তৈরির উপাদানগুলোর ৭০ শতাংশ আসে চীন থেকে। তাহলে বাণিজ্যিক রেষারেষি সম্পর্কের টানাপোড়েনে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে চলেছে কি ভারত সরকার? দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রতিবেদন অনুসারে, সিআইআইর বিশ্লেষকরা বলছেন, ইলেকট্রনিক্স, যানবাহন এবং ওষুধ তৈরির উপাদানের বিকল্প আমদানির উত্স হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, জাপান, মেক্সিকো এবং ইউরোপীয় দেশকে পরখ করা যেতে পারে। বেইজিং অর্থনীতিতে একক পরাশক্তি হিসেবেই আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে। যার প্রমাণ চীনের শক্তিশালী অর্থনীতি ও বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক বাজার দখল। চীন ভারতকেও আমদানির বেড়াজালে আটকে ফেলেছে। অন্যদিকে ভারতকে স্বনির্ভরশীল দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানায় মোদি সরকার। লাদাখ নিয়ে দাঙ্গা ও অর্থনৈতিক রেষারেষির সম্পর্কটার পরিণতি যাকে বলে কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায় তা দেখার অপেক্ষা ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলের গোলটেবিলের বৈঠকে।
n লেখক :শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
