লাশ ফেলে দেওয়ার পর ভেসে উঠলে নদীতে নেমে পেট কেটে দেয় আসলাম

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ২২:৫৩

করোনার প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট অভাব থেকে বাঁচতে পরিকল্পিতভাবে বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশি তদন্তে নৃশংস হত্যার ঘটনা বেরিয়ে এলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কোতোয়ালি মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, বন্ধুকে খুন করে লাশ নদীতে ফেলে দেন ঘাতক আসলাম। পরে লাশ ভেসে উঠলে ফের নদীতে নেমে বন্ধুর পেট কেটে দেন আসলাম। গতকাল রবিবার হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে বরিশাল আদালতে ঘাতক আসলাম এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আল আমিন। তিনি জানান, ‘নিহত রুমানের লাশ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। লাশ উদ্ধারে অভিযান চলছে।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি নূরুল ইসলাম জানান, ‘২৪ নম্বর ওয়ার্ড সাগরদী এলাকায় খুন হওয়া রুমানের খালা সুমি বেগমের দাখিল করা একটি সাধারণ ডায়ারির সূত্র ধরে এবং অটোরিকশা মালিক রিফাতের করা মামলায় যার কাছ থেকে অটোটি উদ্ধার করা হয়েছে তাকে ও তার স্ত্রীকে রিমান্ডে নিলে হত্যা রহস্য বেরিয়ে আসে। আসলাম তার বন্ধু অটোচালক রুমানকে নিয়ে বাকেরগঞ্জ শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রুমানকে গলা কেটে হত্যা করেন আসলাম। লাশটি ভেসে ওঠায় আসলাম নদীতে নেমে পেট কেটে লাশটি ডুবিয়ে দেন। তারপর অটোটি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে চলে যান আসলাম। ওসি জানান, ‘এই ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলা হবে।’ 

তিন নারী প্রতারক আটক

এদিকে বরিশালে প্রতারণার মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের তিন নারী সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের (বিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার মো. খায়রুল আলম এ তথ্য জানান। খায়রুল আলম জানান, ‘গত ১০ জুলাই নগরীর কাউনিয়ার ফল ব্যবসায়ী হাসান খানের দোকান থেকে মাহিনুর বেগম (৪৫) নামে এক নারী আম ক্রয় করেন। ঐ নারী ভাটিখানা এলাকার কবির মঞ্জিলের ভাড়াকরা ফ্ল্যাটে অপর সহযোগীদের নিয়ে বাস করতেন। ফল ক্রয়ের পরে ঐ নারী হাসান খানকে ফোনে জানান, ‘তার আরো তিন কেজি লাগবে। এরপর ঐ নারী আম ক্রয় করেন এবং টাকা আনতে ভুলে গেছেন জানিয়ে তাকে বাসায় নিয়ে যান। এরপর ফ্ল্যাটে তার সহযোগী স্বর্ণা হালদার (২৮) ও ফেরদৌসি আক্তার রুমা (৩৩) তাকে ফাঁদে ফেলে। তারা নাদিম হাওলাদার নামে এক যুবকের সহায়তায় ব্যবসায়ীর মোবাইলে অশালীন ছবি ধারণের কথা জানিয়ে জিম্মি করে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। ব্যবসায়ী ১১ হাজার টাকা দিয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পান। কৌশলে অভিযান চালিয়ে প্রতারক তিন নারীকে আটক করা গেলেও নাদিম পালিয়ে যান।’