রাখাইনে এবার বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের হামলা নিরাপত্তা বাহিনীর ৭ জন নিহত

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৪

মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবসে রাখাইনে বৌদ্ধ বিদ্রোহীরা চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার ভোরের এ হামলায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্য নিহত হয়েছে। সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এএফপি’র বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্যটিতে গত ডিসেম্বর থেকেই আরাকান আর্মি ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ জোরদার হতে থাকলে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়। ২০১৭ সালের আগস্টে এই রাখাইনে ভয়াবহ সেনা অভিযানের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ বলছে, আরাকান আর্মির সাথে সাম্প্রতিক লড়াইয়ের জের ধরে আরও আড়াই হাজার বেসামরিক নাগরিককে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র খিন থু খা রয়টার্সকে বলেন, তারা চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছে। এতে সাতজন নিহত হয়েছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনীর আরও ১২ জনকে আটক করেছে বলে দাবি করেন তিনি। মুখপাত্র বলেন, আটক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আমরা আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করবো। তাদের কোনো ক্ষতি করবো না। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত কয়েক সপ্তাহে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যে হামলা চালিয়েছে তার জবাবেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

সেনা মুখপাত্র ঝাও মিন তুন রয়টার্সকে বলেন, শুক্রবারের হামলার জবাব দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। যে চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা হয়েছে সেগুলো বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া। তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অঞ্চলে সেনা অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে কতজন এবারের হামলায় নিহত হয়েছে সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ওই এলাকায় বৌদ্ধ নৃ-গোষ্ঠীরা বসবাস করে এবং তারা মিয়ানমারের নাগরিক। এরা রাখাইনে থাকলেও রোহিঙ্গা নয় বলে নিশ্চিত করেন তিনি। ঝাও মিন তুন বলেন, ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের ৭১ বছর পূর্তিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কয়েক মিনিট পর থেকেই হামলা শুরু হয়।

যদিও আরাকান আর্মির খিন থু খা স্বাধীনতা দিবসের সাথে এই হামলার সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমরা এখনো স্বাধীন নই। এটা আমাদের স্বাধীনতা দিবস নয়। রাখাইনে বৈষম্যের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এ দিকে, এএফপি জানিয়েছে, আরাকান আর্মি রাখাইনে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন চাইছে। তাদের অভিযোগ পুলিশ পোস্টগুলোকে সামরিক বাহিনী আর্টিলারি হিসেবে ব্যবহার করছে। দুই সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী পুলিশকে যুদ্ধের মধ্যে নিয়ে আসে এবং সারাদিন ধরে সামরিক হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ হয়েছে।

এ দিকে, সম্প্রতি যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে সেটি সামরিক বাহিনী একতরফা করেছে। আরাকান আর্মির দাবি- রাখাইনের শক্তি বৃদ্ধির জন্যই এটি করেছে সেনাবাহিনী। যদিও পর্যবেক্ষকরা নতুন করে সেনা মোতায়েনের আর কোনো ইঙ্গিত পাননি বলে জানাচ্ছেন।