১০৮ বছর বয়সেও জোটেনি বয়স্ক ভাতা

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ১৭:১১

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ১০৮ বছর বয়সেও বয়স্ক ভাতার কার্ড জোটেনি তফিল উদ্দিনের ভাগ্যে। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান বলছেন তার নাম তালিকা করে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু উপজেলা সমাজসেবা অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তালিকায় তফিল উদ্দিন নামে কোন নাম নেই।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম তফিল উদ্দিন, পিতা. মৃত উমেদ আলী,জাতীয় পরিচয় পত্র নং ৪৯১০৬৩৮৪৬৬৭৩৮, জন্ম তারিখ-২৯ নভেম্বর, ১৯১১। সে অনুযায়ী বর্তমানে তার বয়স ১০৯ বছর চলছে। কিন্তু এলাকাবাসী ও স্বজনদের দাবি পরিচয়পত্রে জন্ম সাল ভুল রয়েছে। তার প্রকৃত বয়স ১৩০ বছর। তার পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ অনুযায়ী তিনি একাধারে তৎকালীন ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নাগরিক।

উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের কানিপাড়া গনাইরকুটি (চৌধুরী বাজার) গ্রামে তার বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে বৃদ্ধ তফিল উদ্দিনকে কোরআন শরীফ পড়তে দেখা যায়। চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ায় দিনের আলোতে পড়তে সমস্যা হচ্ছে। বৃদ্ধ তফিল উদ্দিনের কাছে কিছু জানতে চাইলে ভাঙা ভাঙা গলায় তিনি আলোর অভাবে পবিত্র কোরান শরীফ পড়ার সমস্যা হচ্ছে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বলে জানান। 

আরও পড়ুন: দুই যুগ ধরে নিজ অর্থায়নে বৃক্ষ রোপণ

তফিল উদ্দিনের ছেলে আবুল হাসেম প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আর কত বয়স হলে সরকারি সুবিধা পাবেন আমার বাবা। বয়স তো কম হয়নি। এখন একা চলাফেরা করতে পারেন না। অথচ একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড বা সরকারি কোনো সুবিধা আজও পাইনি আমরা। তিন বলেন, ‘চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে গেলেও কোনো লাভ হয়নি।’ এভাবেই ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পাঁচ ভাই ও পাঁচ বোন। আমাদের সকলের আলাদা সংসার। বাবা আমার সংসারেই আছেন। তিনি এখন বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। আমার তিনটি সন্তান। জায়গা জমি বলতে বাড়ি ভিটে ছাড়া আবাদি কোন জমি নাই। বাজারে একটি দোকান রয়েছে। এই দোকান করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে বাবার চিকিৎসার খরচ বহন করা আমার পক্ষে খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সরকারি কোন সহযোগিতা পেলে হয়তো বাবার চিকিৎসা চালানো সহজ হতো।’ 

সোনাহাট ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহান মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। নতুন তালিকায় তার নাম পাঠিয়েছি।আশা করি খুব দ্রুত তিনি ভাতা পাবেন।’ 

জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, ‘ভূরুঙ্গামারীতে এত প্রবীণ একজন ব্যক্তি আছেন আমার সেটা জানা ছিল না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/এএএম