প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় চিকিত্সার জন্য গতকাল রাতেই হাঙ্গেরি যাচ্ছে পাবনার মাথা জোড়া লাগানো জমজ কন্যাশিশু রাবেয়া ও রোকাইয়া। রাত ১টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হাঙ্গেরির উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করছে তারা। দুবাই হয়ে তাদের হাঙ্গেরি যাওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে শিশু রাবেয়া ও রোকাইয়ার মা-বাবার হাতে সপরিবারে হাঙ্গেরি যাওয়ার প্লেনের টিকেট তুলে দেন।
সাংবাদিক সম্মিলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অসহায় দরিদ্র মানুষের পাশে সব সময় থেকেছেন। তাদের দোয়ায় শেখ হাসিনা আবারো দেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। বাচ্চাদের জন্য দোয়া করি। তাদের বিরল অপারেশন হতে যাচ্ছে। তারা যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। আশা করি, হাঙ্গেরি থেকে দেশে আসার পরে তাদের মাথা আলাদা করাও সম্ভব হবে।
সদ্য প্রয়াত জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, সৈয়দ আশরাফ ছিলেন আমার আপন ভাইয়ের মতো। শহীদ জাতীয় চার নেতা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। আশরাফ সবসময় রাজনীতির সংকটের সময়ে সাহস ও নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করেছেন। তার চিকিত্সার পুরো ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী নিজে করেছেন। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সবসময় তার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তাকে (সৈয়দ) আমরা হারিয়েছি, যেন আমরা নিজের ভাই হারিয়েছি। রাজনৈতিক জীবনে তার নিষ্ঠা, সাহস সবসময় বাংলাদেশের মানুষ মনে রাখবে। আমরা তাকে আবারও শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, এক বছর ধরে মাথা জোড়া লাগানো শিশু দু’টি বার্ন ইউনিটে চিকিত্সা নিচ্ছে। এরমধ্যে জার্মান ও হাঙ্গেরির দুই বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক তাদের দেখেন। তারা দুই দফায় মাথায় এনজিওগ্রামের মাধ্যমে তাদের ব্রেইনের প্রধান রক্তনালী পৃথক করেন। এরপর তারা শিশু দু’টিকে হাঙ্গেরিতে নিয়ে যৌথভাবে চিকিত্সা করাতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম জানান, বাংলাদেশেই তাদের চিকিত্সার দুই ধাপ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন তৃতীয় ধাপ সম্পন্ন করার জন্য তাদের হাঙ্গেরি পাঠানো হচ্ছে। সেখানে পাঁচটি বিশেষজ্ঞ টিম তাদের চিকিত্সা পরিচালনা করবে। আনুমানিক তিন-চার মাস তারা সেখানে চিকিত্সা নেবে। ইনজেকশনের মাধ্যমে তাদের মাথার খুলি ফুলিয়ে ভেতরে কিছুটা ফাঁকা করা হবে। পরে ফাইনাল অস্ত্রোপচার হবে বাংলাদেশে। তিনি বলেন, এ ধরনের রোগীর সফলতা ২০ শতাংশেরও কম। তবুও আমরা আশাবাদী। প্রায় ছয় মাস পর ঢাকায় তাদের মাথা পৃথক করার কাজ করা হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্নাসহ বার্ন ইউনিটের চিকিত্সকেরা।
