পাটগ্রামে বন্যায় পানিবন্দী এলাকাবাসী

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২০, ১৭:৫২

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের উজানে ভারতীয় অংশের তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ব্যারাজ বাঁধ খুলে দেওয়া এবং পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টিতে গত তিনদিন ধরে বন্যায় দহগ্রামের প্রায় অর্ধাংশের অধিবাসীরা পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। 

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দহগ্রাম ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের তিস্তা চরাঞ্চলসহ মুন্সিপাড়া, ক্লিনিক পাড়া, চরপাড়া, কাতিপাড়া, সৈয়দপাড়া এলাকায় বন্যা চরম আকার ধারণ করেছে। এখানকার প্রায় ছয় শতাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পানিবন্দী হয়ে নদীর তীরবর্তী ৫ টি গ্রামের শিশু, বৃদ্ধ ও গৃহপালিত পশু নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে আমন ধান ও সবজি ক্ষেত। গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি, হলদিবাড়ী, মেকলিগঞ্জ দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর একাধিক স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। বন্যার সময় সকল গেট খুলে দেওয়ায় দহগ্রামে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর পানি প্রবল আকার ধারণ করে বন্যায় বাংলাদেশি সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। 

আরও পড়ুন: দলের ভেতরের বর্ণচোরাদের ছাড় দেওয়া হবে না: কাদের
 
কাতিপাড়া এলাকার আমির হোসেন বলেন, ‘বন্যায় ঘরে পানি উঠায় ৩-৪ দিন থেকে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অন্যের বাড়িতে সহযোগিতা নিয়ে চলতে হচ্ছে।’ 

চরপাড়া এলাকার মানিকজান বেগম বলেন, ‘শিশু আর গরু, ছাগল নিয়ে বন্যায় খুব সমস্যায় আছি।’

৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বুলবুল সরকার ও ৯ নং ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান হবি উভয়ে জানান, বন্যায় পানিবন্দী পরিবারগুলোর জন্য এখনও কোনো সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি।’  

পাটগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা উত্তম কুমার নন্দী বলেন, ‘দহগ্রামের বন্যা কবলিত এলাকা সরেজমিনে প্রদর্শন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে। পানিবন্দী পরিবারের মাঝে দ্রুত ত্রাণ বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/এএএম