‘নানা প্রতিবন্ধকতার ভিতর দিয়ে নাট্যচর্চার সাথে নারীদের যুক্ত হতে হয়’

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:০২

নাট্যচর্চার ক্ষেত্রে নারী নাট্যকর্মীদের কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়?

এটি আসলে নির্ভর করে সমাজ বাস্তবতার ওপর। আমাদের দেশের রাষ্ট্র ও সামাজিক প্রেক্ষাপট একে নিয়ন্ত্রণ করে। ধর্মীয় অনুশাসন আমাদের সমাজে বিদ্যমান। তা ছাড়া সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নাট্যচর্চার সাথে যুক্ত হওয়াকে সম্মানিত মনে করে না। এরকম একটা পরিবেশে নানা প্রতিবন্ধকতার ভিতর দিয়ে নাট্যচর্চার সাথে নারীদের যুক্ত হতে হয়। তাছাড়া দলীয় পুরুষ সহযোদ্ধারাও কতটা সম্মানের চোখে নারী সহযোদ্ধাদের দেখে সেটাও বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন। পরিবারের লোকেরাই যখন সম্মান করতে কুণ্ঠাবোধ করে, তখন বাইরের লোকেরা অসম্মান করবে, এটাই তো স্বাভাবিক। এটা আসলে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থারই একটা অংশ বলে আমি মনে করি।

নির্দেশক ও অভিনেত্রীর সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?

নির্দেশক ও অভিনেত্রীর মধ্যে বোঝাপড়াটা পরিষ্কার থাকলে কাজটা সুন্দর হয়। একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীকেও ভাববার স্বাধীনতা দিতে হবে। আধুনিক নাট্যধারায় নির্দেশকই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তথাপি অভিনেতা-অভিনেত্রীর নিজের অভিমত বা মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকলে নির্মাণটা সুন্দর হয়। কারণ সংলাপ প্রক্ষেপণ থেকে শুরু করে সকল বিষয় অভিনেতা-অভিনেত্রীকেই করতে হয়। সুতরাং তার স্বাচ্ছন্দ্যবোধের বিষয়টি তার ওপরই নির্ভর করে। তবে এই পথ পরিক্রমণটা আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে হলে ভালো হয়। 

নারীদের থিয়েটারমুখী করার ক্ষেত্রে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত?

নারীরা থিয়েটারমুখী নয়, কথাটা কি সত্য? এটি সম্পূর্ণ সাংগঠনিক বিষয়। ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের ভূমিকা কেমন হবে—এই বিষয়টি তারাই ভালো বলতে পারবেন।

একক অভিনয়ে উদ্বুদ্ধ হওয়ার পিছনের কারণ কী? দলে এর প্রভাব পড়ে কি না?

সকল অভিনেতা-অভিনেত্রীর এটা একটা স্বপ্ন। থিয়েটারের এই পথ পরিক্রমায় তিন দশকেরও অধিক সময় ধরে কাজ করার ফলে একটা একক নাটকে কাজ করার ইচ্ছে জাগাটাই তো স্বাভাবিক। এই পথচলায় পৃথিবীর বিখ্যাত বিখ্যাত নির্দেশকদের সাথে কাজ করার একটা অভিজ্ঞতা তো হয়েছে। হয়তো সেটাই সাহস জুগিয়েছে। আর দলে প্রভাব পড়বে কেন? একক নাটক তো দলের ব্যানারেই হচ্ছে। আর দল তো সিদ্ধান্ত নিয়েই নাটকটি মঞ্চে আনতে সকল প্রকার সহযোগিতা করছে। তবে এইটুকু বলতে পারি, আমাদের দলে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়েনি এবং ভবিষ্যতেও পড়বে না।

নাটকের নতুন চরিত্রে অভিনয়ের আগে একজন অভিনেতার প্রস্তুতি কেমন হওয়া উচিত?

যেকোনো নতুন চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে প্রত্যেক অভিনেতার প্রস্তুতি নিতে হয়। তবে এটা নির্ভর করছে সে কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করছে, সেটার ওপর। চরিত্রের ধরনের ওপর তার প্রস্তুতিও নির্ভর করে।

অভিনীত চরিত্রটিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার অন্তর্নিহিত সত্যকে আবিষ্কার করাই একজন অভিনেতার কাজ বলে আমি মনে করি। এই কাজটি অভিনেতাকে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পন্ন করতে হয়। চরিত্রের অন্তর্নিহিত সত্যকে যিনি যত বেশি গভীরভাবে আত্মস্থ করতে পারবেন, তিনি তত বেশি দর্শকের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবেন বলে আমি মনে করি।