প্রস্তরলিপি থেকে ই-বুক

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২০

আসিফুর রহমান সাগর

লেখক, কবি, সাহিত্যিকদের প্রতি এক দুর্নিবার আকর্ষণ অনুভব করেন পাঠকরা। তাদের কল্পনার লেখা বিশ্বাস করেন। লেখকদের কল্পনার গল্পগুলো মানুষের কাছে সত্য ঘটনার মতো সামনে এসে দাঁড়ায়। সেই বিশ্বাস কখনো কখনো ঈশ্বর-বিশ্বাসের মতো দৃঢ় হয়। বইমেলা দোরগোড়ায়। আসছে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মিলে বসবে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা। বইয়ের প্রতি মানুষের এক দুর্নিবার টান। সেলফোন, ইউটিউব, নেটফ্লিক্সের যুগে এখনও যে মানুষ বই পড়ে এটাও তো এক বিস্ময়। অনেকে বইয়ের বদলে ই-বুক পড়ে কিন্তু বই তো। তারপরেও আধুনিককালে একটা বিতর্ক লেগেই থাকে বইয়ের পাঠক কী কমে যাচ্ছে?

এ প্রসঙ্গে জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বললেন, পাঠক কমছে কিনা এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট জরিপ নেই। এমনও হতে পারে প্রযুক্তির চাপে; টিভি, মোবাইল, ইন্টারনেট প্রভৃতির ব্যবহারের কারণে মানুষের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ কমছে। অন্যদিকে, প্রতিবছর বই মেলায় তো বই বিক্রি বাড়ছে। ফলে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। আরেকটি দিক হচ্ছে, গত বিশ বছরে নতুন কোনো লেখককে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেখা যায়নি। এখানে যেমন পাঠকের লেখককে খুঁজে বের করার দায়িত্ব রয়েছে বলে অনেকে বলেন; তবে আমার মনে হয়, এই মাথাচাড়া দিয়ে সবার নজরে পড়ার বিষয়টা লেখককেই ঘটাতে হয়। নতুন লেখক উঠে আসার এটাই প্যাটার্ন।

ভাষার প্রকাশ থেকে বইপ্রকাশ

মানুষ কথা বলতে শিখলো কবে? সেই কথা আবার রূপ নিল ভাষায়। ভাষাকে মুখে বললে চলছিল না, মানুষের মাঝে লেখার তাগিদ দেখা দিল। ভাষা রূপ পেল বর্ণে শব্দে। মানুষের বিবর্তনের ইতিহাসে আকার-ইঙ্গিতের নির্বাক অথবা প্রাক-ভাষা থেকে অন্তত একবার মৌখিক ভাষার জন্ম হয়। ২০ লাখ বছর আগে মানুষের পূর্বপুরুষ প্রাণীটি শিম্পাঞ্জিদের পূর্বপুরুষ থেকে আলাদা হয়ে যায়। এরা মূলত বৃক্ষে বসবাস করত, মাটিতে চার পায়ে হাঁটত এবং বিশ-ত্রিশটার মতো ভিন্ন ডাকের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করত।

নৃবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভাষার উত্পত্তির ঘটনা ইতিহাসে একবারই ঘটেছিল, একাধিকবার নয়। বিশ্বের সর্বত্র প্রচলিত ভাষাগুলির মধ্যে গাঠনিক সাদৃশ্য এই অনুমানের ভিত্তি। ধারণা করা হয় আধুনিক ভাষাক্ষমতা বলতে যা বোঝায়, তার সূচনা ঘটেছিল অস্ট্রেলিয়াতে হোমো সেপিয়ন্সেদের বসতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের গবেষণা অনুসারে এই ঘটনাটি ঘটেছিল ৪০ থেকে ৬০ হাজার বছর আগে।

নৃবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের ভাষিক দক্ষতার উন্নতির ছাপ তার আশপাশের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে, তার হাতিয়ারে, সরঞ্জামে, শিল্পে, প্রভৃতিতে পড়ার কথা। আসলেই প্রায় ৪০ হাজার বছর আগে মানুষের হাতিয়ার ও সরঞ্জামের বৈচিত্র্য ও মানের দিক থেকে এক ধরনের ব্যাপক উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। ফ্রান্সের লাস্কো-র বিখ্যাত গুহাচিত্রগুলোও প্রায় ৩০ হাজার বছর পুরনো।

মানুষ যখন থেকে জ্ঞানের চর্চা শুরু করেছে তখন থেকেই বইয়ের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে। মানুষের গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনীয়তা থেকেই লাইব্রেরির সৃষ্টি। বিশ্বের প্রথম লাইব্রেরি ‘লাইব্রেরি অব আলেকজান্দ্রিয়া’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ২৮৮ অব্দে। সম্রাট আলেকজান্ডারের সময়ে টলেমি-১, ফেলেরনের দিমিত্রিয়াসের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠা করেন এ লাইব্রেরি। এরপর ধ্বংস হওয়ার আগে পর্যন্ত প্রায় ৬০০ বছরের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সকল শাখার সকল আবিষ্কার ও দলিলের সাক্ষী হয়ে ছিল এই লাইব্রেরি। ভারতবর্ষেও প্রাচীন কাল থেকে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। খ্রিস্টীয় ৪২৭ অব্দ থেকে ১১৯৭ পর্যন্ত এই মহাবিহারকে ‘ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম’ বলে বিবেচনা করা হতো। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি হচ্ছে ইংল্যান্ডের লন্ডনে অবস্থিত ‘ব্রিটিশ লাইব্রেরি’। যার বইয়ের সংখ্যা প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ। আর প্রতিবছর ১ কোটি ৭৫ লাখ আগ্রহী পাঠক এই লাইব্রেরিতে আসেন। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত লাইব্রেরি অব কংগ্রেস। যার বই সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ। আর প্রতিবছর ১ কোটি ৭৫ লাখ পাঠক এই লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন।

শিক্ষা বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও লাইব্রেরির প্রসার বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে রাজা, জমিদারদের পৃষ্ঠপোষকতায়, ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠত হতে থাকে লাইব্রেরি। যা পরবর্তী প্রজন্মের পর প্রজন্মকে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের লাইব্রেরিগুলো যেন দ্যুতিহীন, ম্র্রিয়মাণ। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে বইয়ের গাড়ি পাড়া-মহল্লায় গিয়ে পাঠকের দরজায় বই পড়ার জন্য কড়া নাড়ছে। কিন্তু সেই উত্সাহ যেন নেই।

বই এলো কেমন করে

সম্রাট অশোকের জন্মেরও চার হাজার বছর আগে আশিরিয়া ও ব্যাবিলন নামে দুটি দেশে পাথরের উপর লেখার প্রচলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু তাদের দেশে পাথর সহজলভ্য ছিল না। তাই তারা একসময় কাদা মাটির উপর লিখে তা পুড়িয়ে সংরক্ষণ করতো। ব্যবিলনের একটি লাইব্রেরিতে এরকম ২২ হাজারেরও বেশি পাথুরে বই পাওয়া গেছে। এরপরে নীল নদের তীরে পিরামিডের দেশ মিশরে প্যাপিরাস নামে গাছের পাতায় লেখা শুরু করলো। প্যাপিরাসের বইগুলো লম্বা কাপড়ের থানের মতো হতো। এই বইগুলো গুটিয়ে রাখা হতো। সবচেয়ে বড় প্যাপিরাস বইটির দৈর্ঘ্য ছিল একশ বিশ ফুট অর্থাত্ ৮০ হাত লম্বা। তাদের লেখার পদ্ধতিটাও ছিল অদ্ভুত। আজকের দিনে আমরা বাম বা ডান যেদিক থেকেই লেখা শুরু করি না কেন লাইন শেষে আবারও ফিরে আসি সেদিকে। কিন্তু মিশরীয়রা ডানদিক থেকে লেখা শুরু করে লাইন শেষ হলে পরের লাইন শুরু করতো বামদিক থেকে। আবার এই লাইন শেষ হলেই তারপরের লাইন শুরু করতো ডানদিক দিক থেকে। অনেকটা কৃষকদের জমিতে হাল চাষ দেয়ার মতো করে। একসময় এই প্যাপিরাস শুধু মিশরে নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। এই প্যাপিরাস থেকেই ইংরেজি  ‘পেপার’ শব্দের উত্পত্তি। মিশরীয়রা প্যাপিরাস ব্যবহার করলেও চীনারা লিখত বাঁশের ফলকে। এমনকি তারা কাপড়েও লিখত। কাগজ প্রথম তৈরি করে চীনারা। বই ছাপাবার কায়দাও চীনারাই প্রথম আবিষ্কার করেছিল। পরে সে কৌশল ইউরোপ গ্রহণ করে। ১৫ শতকে জার্মানির জোহানেস গুটেনবার্গ উদ্ভাবন করলেন আধুনিক মুদ্রণ যন্ত্র। ১৪৫৬ সালের দিকে তিনি প্রথম বাইবেল গ্রন্থকে তার প্রেসে ছেপে প্রকাশ করেন। এই বইটি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে সংরক্ষিত আছে। দর্শনার্থীরা তা দেখতে পারেন। গুটেনবার্গের বাইবেল ছাপানোর এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়লো ইউরোপসহ সারাবিশ্বে। এরপর বইয়ের ইতিহাস নিল নতুন মোড় যা আজকের চরম উত্কর্ষেও অবস্থানে এসে পৌঁছেছে।

কেন বই পড়া

মানুষ তো সারাদিনই কিছু না কিছু পড়ছেই। সেল ফোনে এসএমএস, ফেসবুকের আপডেটস, খবরের কাগজ, রাস্তায় বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং। এত কিছু পড়ার পরেও বই কেন পড়তে ইচ্ছা করে? ইউরোপে পরিচালিত একটি গবেষণায় বলছে, নানা কারণে বই পড়ে মানুষ। তবে অনেকগুলো কারণের মধ্যে প্রধানত জ্ঞান আহরণের জন্য। এতো সবারই জানা যে, বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে। শুধুই এই, আর কিছু না? জ্ঞানের আগ্রহে মানুষ বই পড়ছে শুধু এইটা তো একমাত্র কারণ হতে পারে না। তাহলে তো স্কুল-কলেজে কেউ ফলাফল খারাপ করতো না। বা ক্লাসের মাঝে লুকিয়ে গল্পের বই পড়তো না। তাহলে, কেন পড়ে মানুষ বই? ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বই পড়ার দশটি কারণ বলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্মৃতিশক্তি বাড়ানো, বলবার দক্ষতা বৃদ্ধি, চিন্তার স্বচ্ছতার জন্য, বিশ্লেষণী দক্ষতা, মনোসংযোগ, লিখবার দক্ষতা, বিনোদনের জন্য, অবসাদ কাটানোর জন্য বই পড়ে মানুষ। কিন্তু সবচেয়ে প্রথমে যে বিষয়টিকে তারা রেখেছে সেটি হচ্ছে ‘মানসিক উদ্দীপনা’। বই পড়লে মানুষ মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত হয়। সেই কারণেই বই পড়ে মানুষ। যখন মানুষ বই পড়ে তখন কল্পনার জগতে প্রবেশ করে। যা বিশ্বাস করতো না, তা বিশ্বাস করে প্রাণিত হয়, বইয়ের প্রাণহীন পাতাগুলো মানুষের মনের স্পর্শে প্রাণ পায়। ডানা মেলে আকাশে। সেই উদ্দীপ্ত মানুষগুলো বইয়ের স্পর্শে অসাধ্যকে সাধন করতে প্রস্তুত হয়ে ওঠে। আর সে কারণেই এই বিজ্ঞানের বিস্ফোরণের যুগেও বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি।

আমাদের বইমেলা, বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা

বাংলাদেশে বইমেলার উদ্ভবের ইতিহাস খুবই কৌতূহলোদ্দীপক। বইমেলার বিষয়টির এ দেশে প্রথম ভাবেন প্রয়াত কথাসাহিত্যিক জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাবেক পরিচালক সরদার জয়েনউদদীন। তিনি বাংলা একাডেমিতেও একসময় চাকরি করেছেন। বাংলা একাডেমি থেকে ষাটের দশকের প্রথম দিকে তিনি গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক পদে নিয়োগ পান। এসময় শিশু গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন তত্কালীন কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি) নিচতলায়। সম্ভবত, এটাই ছিল বাংলাদেশের প্রথম বইমেলা। এটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৬৫ সালে। এরপরে ১৯৭০ সালে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সহযোগিতায় নারায়ণগঞ্জে একটি গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন তিনি। এই মেলায় সরদার জয়েনউদদীন একটি মজার কাণ্ড করেছিলেন। মেলার ভেতরে একটি গরু বেঁধে তার গায়ে লিখে রাখা হয়েছিল ‘আমি বই পড়ি না’। মানুষকে গ্রন্থপাঠে আগ্রহী করে তুলতেই সরদার জয়েনউদদীনের এই অভিনব প্রয়াস ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এরপরে ১৯৭২ সালে তিনি যখন গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক, তখন ইউনেসকো ওই বছরকে ‘আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে। গ্রন্থমেলায় আগ্রহী সরদার সাহেব এই আন্তর্জাতিক গ্রন্থবর্ষ উপলক্ষে ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একটি আন্তর্জাতিক গ্রন্থমেলার আয়োজন করেন। সেই থেকেই বাংলা একাডেমিতে বইমেলার সূচনা। এদিকে, ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গণে বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন। এই ৩২টি বই ছিল চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশি শরণার্থী লেখকদের লেখা বই। এই বইগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রথম অবদান। ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তত্কালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমিকে মেলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন। ১৯৭৯ সালে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি, এই সংস্থাটিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা।

১৯৮৩ সালে কাজী মনজুরে মওলা সাহেব যখন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক, তখন তিনি বাংলা একাডেমির আয়োজনে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র আয়োজন সম্পন্ন করেন। কিন্তু স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষা ভবনের সামনে ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিলে ট্রাক তুলে দিলে দুজন ছাত্র নিহত হয়। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর সেই বছর আর বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। ১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে বর্তমানের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২১ তারিখ বাংলা ভাষার জন্য আত্মোত্সর্গেও যে ঘটনা ঘটে, সেই স্মৃতিকে অম্লান রাখতেই এই মাসে আয়োজিত বইমেলার নামকরণ করা হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’।

প্রতিবছর বইমেলার কলেবর বাড়ছে। এই মেলা উপলক্ষ করেই বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেছে। এটি পৃথিবীর দীর্ঘদিনব্যাপী আয়োজিত একটি বইমেলা। একুশের মহান ঐতিহ্যকে ধারণ করে এ মেলা এত বিশাল আকার ধারণ করেছে, তা এখন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও সম্প্রসারিত হচ্ছে।