l ফয়জুল আল আমীন
জাম খুব উপকারী ফল। পুষ্টিগুণে অতুলনীয় এ ফলটিতে আছে ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’, ফাইবার, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, স্যালিসাইলেট, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফুকটোজ সহ অসংখ্য উপাদান। জামের কিছু উপকারিতার কথা তুলে ধরা হলো—
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় :জামে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান যেমন- ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন ‘সি’ থাকে বলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাম অতুলনীয়ভাবে কাজ করে। এছাড়া দেহের হাড় শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে জাম।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় :ঐতিহ্যগতভাবেই জাম ডায়াবেটিসের চিকিত্সায় ব্যবহূত হয়ে আসছে। জামের গ্লিসামিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিসের জন্য ভালো বলে বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত।
ইনফেকশন সারায় :জামের পাতা সিদ্ধ করে সেই কাঁথ দিয়ে ক্ষত ধুয়ে দিলে ২-৪ দিনের মধ্যে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়। যে ক্ষত তাড়াতাড়ি সেরে ওঠছে না—সেখানে জাম ছালের মিহি গুঁড়া ছড়িয়ে দিলে কয়েকদিনের মধ্যেই সেই ক্ষত পূর্ণ হয়ে যায়।
হূদরোগের ঝুঁকি কমায় :জামে থাকা এলাজিক এসিড বা এলাজিটেনিন্স, এন্থোসায়ানিন এবং এন্থোসায়ানিডিন্স প্রদাহরোধী হিসেবে কাজ করে। এই উপাদানগুলো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করায় কোলেস্টেরলের জারণ রোধ করে এবং হূদরোগ সৃষ্টিকারী প্লাক গঠনে বাধা দেয়।
ভিটামিন সি’র ঘাটতি পূরণ করে :জামে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’। যার জন্য এটা দেহে ভিটামিন সি’র ঘাটতি পূরণ করে এবং একই সঙ্গে ভিটামিন সি’র অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করে। সেই সঙ্গে মুখের দুর্গন্ধ রোধ, দাঁত মজবুত, মাড়ি শক্ত এবং মাড়ির ক্ষয়রোধেও জুড়ি নেই জামের।
শারীরিক দুর্বলতা দূর করে :জামে থাকা পানি, লবণ ও পটাশিয়ামের মতো উপাদান গরমে শরীর ঠান্ডা রাখে এবং শারীরিক দুর্বলতা দূর করে। জামে থাকা প্রচুর পরিমাণের আয়রন দেহের রক্তস্বল্পতা দূর করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক :জাম মুখের ভেতর উত্পাদিত ক্যান্সারের সহায়ক ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব থেকে দেহকে রক্ষা করে মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
টিস্যুর সুরক্ষায় :কালোজাম টিস্যুকে টান টান হতে সাহায্য করে। যা ত্বককে তারুণ্যদীপ্ত হতে সাহায্য করে।
আমাশয় নিরাময়ে :জামের কচি পাতার রস ২-৩ চা চামচ একটু গরম করে ছেঁকে নিয়ে খেলে ২-৩ দিনের মধ্যে আমাশয় সেরে যায়।
অরুচি ও বমিভাবে :পাকা জাম সৈন্ধব লবণ মাখিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে, সেটা চটকে ন্যাকড়ার পুঁটলি বেঁধে টানিয়ে রাখলে যে রস ঝরে পড়বে, সেটা ২০-২৫ ফোটা খেলে অরুচি ও ববিভাব কমে যায়।
শয্যামূত্র সমস্যায় :এ রোগে ২-৩ চা চামচ জাম পাতার রস (বয়স অনুপাতে মাত্রা) ১-২ চা চামচ গাওয়া ঘিয়ের সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন একবার করে খেতে হবে।
সতর্কতা :১. আধাপাকা জাম খাবেন না। ২. খালি পেটে জাম খাবেন না। ৩. জাম খাওয়ার পর দুধ খাবেন না। ৪. পাকা জাম ভরা পেটে খেলে অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি ও পেটে ব্যথা হতে পারে।
