মুন্সীগঞ্জে সরাসরি ভোটে এমিলির হ্যাটট্টিক জয়

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৫

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

টানা তৃতীয় জয় পেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। তিনি হেভিওয়েট প্রার্থীদের পরপর তিনবার ধরাশায়ী করে হ্যাটট্রিক জয় পেলেন। তাই এই নারী প্রার্থীর ধারাবাহিক জয়ে তৃণমূল পর্যায়ে মানুষ বেজায় খুশি। বিশেষ করে সভ্যতার জনপদ মুন্সীগঞ্জ তথা বিক্রমপুরের নারীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এখানকার নারীরাও পিছিয়ে নেই, তাই জানান দিচ্ছে। অজপাড়াগাঁ পদ্মা তীরের গাঁওদিয়ার সামুরবাড়ির সন্তান হয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে পরবর্তীতে দেশে-বিদেশে মেধার স্বাক্ষর রাখেন। মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত রাখেন। নির্লোভ এই নারী মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়া ছাড়াও এলাকায় টেকসই উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে দলমত নির্বিশেষে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। আর তারই ধারাবাহিকতায় এখানে বিএনপির ঘাঁটি এখন পরিণত হয়েছে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ২ লাখ ১৩ হাজার ৯শ’ ৮৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা পেয়েছেন ১৪ হাজার ১শ’ ৮৭ ভোট। এই আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে বিজয়ী প্রার্থী ছাড়া বাকি সবাই অর্থাত্ ছয় প্রার্থীই জামানত হারিয়েছেন।

এর আগে এমিলি ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি হেভিওয়েট এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়ে তাক লাগিয়ে দেন। ২০১৪ সালে ব্যতিক্রম ছিল এই আসন। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এই আসনে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী মাহবুবউদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রম (এসপি মাহবুব)। পরবর্তীতে মিজানুর রহমান সিনহা বড় বাজেটে আর হরেক রকমের কৌশলকে মোকাবিলা করে আবারও জয়ী হন। এবারও পদ্মা সেতু এলাকার এই আসনটি নিয়ে বিএনপির নানা ষড়যন্ত্র চলছিল। মুন্সীগঞ্জে নারী প্রার্থী এমিলির সরাসরি ভোটে হ্যাটট্রিক জয়ের মূলেই ছিল তার সদাচরণ, ধৈর্য ও  মানুষের কল্যাণে লেগে থাকা। এর আগে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মহিলা এমপি ছিলেন তিনি। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি ছিলেন ব্যাপক গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। কিন্তু বিতর্কিত সে নির্বাচনে তার জয় হয়নি ষড়যন্ত্র ও বড় অর্থের বাজেটের কারণে। যা জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত।