একাদশ জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপের কারণে প্রায় সপ্তাহখানেক স্থবির ছিল নাট্যাঙ্গন। সেই নিরবতার অবসান ঘটিয়ে গতকাল শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার তিন মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় তিনটি নাটক। এর মধ্যে একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে মঞ্চায়ন হয় থিয়েটার (মতিঝিল) এর নাটক ‘দ্রৌপদী পরম্পরা’ পরীক্ষণ থিয়েটার হলে ছিল বরিশালের শব্দাবলী থিয়েটারের ‘ডিজায়ার আন্ডার দ্য এলমস’ ও স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চায়ন হয় নাটকের দল বঙ্গলোকের নাটক ‘মর্ত্যের অরসিক’। শব্দাবলী থিয়েটারের নাটক ‘ডিজায়ার আন্ডার দ্য এলমস’। মার্কিন নাট্যকার ইউজিন ও’নিল’ এর রচনায় কবীর চৌধুরী অনূদিত এই নাটকটির নির্দেশনায় ছিলেন ফজলুর রহমান পলাশ। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বুলবুল আহম্মেদ জয়, নাবিলা নাসরীন, আনোয়ার শামীম, ইয়াসির আরাফাত, জহিরুল ইসলাম, টি আই তপু প্রমুখ।
পাঁচজন নারী আবৃত্তিশিল্পী প্রেম, ভাষা, মুক্তিযুদ্ধ, নারী ও সম্প্রীতি বিষয়ে কবিতা আবৃত্তি করলেন। ভিন্ন এ আয়োজনে শব্দে শব্দে শিল্পীরা ছড়ালেন কবিতার মুগ্ধতা। আবৃত্তি সংগঠন মুক্তবাকের আয়োজনে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে এই আবৃত্তি সন্ধ্যার আয়োজন হয়। আয়োজনের শিরোনাম ছিল ‘প্রীতিসম্প্রতি’।
আবৃত্তি সন্ধ্যার শুরুতেই প্রেম ও প্রীতি বিষয়ক কবিতা নিয়ে মঞ্চে আসেন অদিতি অমৃতারাজ। তিনি পাঠ করে শোনান রওশন ঝুনুর ‘ঝিনুক নদী মুক্তো বুকে’, প্রমথনাথ বিশীর ‘বলো বলো বলো’, রহিমা আখতার কল্পনার ‘দরপত্র’ ও সাকিরা পারভীনের ‘খণ্ড খণ্ড পুরিয়া’ কবিতাগুলো।
সাদিয়া আফরিন আবৃত্তি করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কবিতা। তিনি পাঠ করেন আবুল হোসেনের ‘কয়েকজন বিদেশি সংবাদদাতার উদ্দেশে’, ‘হুমায়ুন আজাদের ‘মুক্তিবাহিনীর জন্যে’, মহাদেব সাহার ‘একজন মুক্তিযোদ্ধার ডায়েরিতে’, ত্রিদিব দস্তিগারের ‘বোবা মেয়েটিকে’ ও মোরশেদ শফিউল হাসানের ‘স্বাধীনতা’।
ইরাম মাহফুজা শোনান ভাষা বিষয়ক কবিতা। পাঠ করেন খোন্দকার আশরাফ হোসেনের ‘ফেব্রুয়ারিতে জনৈক বাগান-মালিক’, সুবোধ সরকারের ‘ইংরেজি’ ও ‘বাংলা না ইংরেজি’, শামসুর রাহমানের ‘বাংলা শব্দতত্ত্ব’ ও অপূর্ব দত্তের ‘বাংলা-টাংলা’।
নারী বিষয়ক কবিতা আবৃত্তি করেন তৃঞ্চা পাল। তিনি পাঠ করেন সুবোধ সরকারের ‘ছুরি দেখিয়ে ভালোবাসা যায় না’ ও ‘কলকাতার হেলেন’, মল্লিকা সেনগুপ্তের ‘মেয়েটি রোদের পথে’ ও ‘দ্রৌপদীজন্ম’ এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘বীরাঙ্গণা’।
আয়োজনের শেষে সম্প্রীতির কবিতা পাঠ করেন রুবিনা শাহনাজ রূপা। তিনি আবৃত্তি করেন তারিক সুজাতের ‘জন্মের আগেই আমি মৃত্যুকে করেছি আলিঙ্গন’, শামসুর রাহমানের ‘বাইবেলের কালো অক্ষরগুলো’, নাসিমা সুলতানার ‘ভিন্ন মানুষ’, মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘দরিয়ানগর’ ও কাজী নজরুল ইসলামের ‘মানুষ’ কবিতা।
