এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ প্রসঙ্গে

সুলতান মনসুর বললেন, ‘অপেক্ষা করুন’, মোকাব্বির বললেন, ‘দল সিদ্ধান্ত নেবে’

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:১৬

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় যেই পাঁচজন বিজয়ী হয়েছেন তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথও নেবেন না এবং সংসদেও যাবেন না বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হলেও এনিয়ে বিভক্ত মত দেখা দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে। ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক গণফোরামের দুই প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর মৌলভীবাজার-২ এবং মোকাব্বির খান সিলেট-২ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন। তবে এই দুইজন শপথ নেবেন না বলে একবারও বলেননি। এনিয়ে বিএনপির সঙ্গে গণফোরামের এবং গণফোরামের সঙ্গে বিজয়ী দুই প্রার্থীর মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতারা সন্দেহ করছেন, গণফোরামের দুইজন হয়তো শপথ নিতে পারেন।

শপথ নেওয়া না নেওয়ার প্রশ্নে গত মঙ্গলবার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ইত্তেফাককে বলেছিলেন, ‘আমি এখনও আমার নির্বাচনী এলাকায়। ঢাকায় ফিরে ড. কামাল হোসেনসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমি সিদ্ধান্ত নেব।’ গতকাল শুক্রবার তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি এখন ঢাকায়।’ শপথের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? এ প্রশ্নের জবাবে সুলতান মনসুরের এক কথা ‘সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করুন।’ সিলেট-২ আসনে বিজয়ী মোকাব্বির খানের বিষয়ে গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাক আহমেদ গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘মোকাব্বির খান বর্তমানে ঢাকায়, তার সঙ্গে ড. কামালের কথা হয়েছে। মোকাব্বি খান বলেছেন, দল যেই সিদ্ধান্ত নেবে সেটা তিনি মেনে নেবেন।’

গণফোরামের দুইজনকে নিয়ে সৃষ্ট সংশয় সম্পর্কে দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেছেন, ‘যদি কেউ ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে শপথ নেন তাহলে জনগণই তাদের সেভাবে মূল্যায়ন করবে।’

জানা গেছে, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর গণফোরামের কোনো কমিটিতে নেই। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি দলটির সদস্যও ছিলেন না। তবে নির্বাচনে তিনি গণফোরামের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তিনি মূলত ব্যক্তিগতভাবে ড. কামালের পুরনো জোট জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় সদস্য ছিলেন। আর মোকাব্বির ভোটে লড়েছেন গণফোরামের দলীয় প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ মার্কায়। মোকাব্বির সিলেট-২ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন না, তিনি শুধু গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। ওই আসনে উচ্চ আদালতে বিএনপি দলীয় ঐক্যফ্রন্টের মূল প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় শেষে গিয়ে ঐক্যফ্রন্ট মোকাব্বিরকে সমর্থন দেয়। সুলতান মনসুরের দলীয় পরিচয় নিয়ে অস্পষ্টতা এবং মোকাব্বিরের প্রতীক নিয়েও বিপাকে পড়েছে বিএনপি বা ঐক্যফ্রন্ট।

এই বিষয়টি এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে আজ শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বর্ধিত সভা ডেকেছে গণফোরাম। ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বর্ধিত সভা শেষে বিকাল চারটায় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।

সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে গণফোরামের শোক

জনপ্রশাসন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু। সৈয়দ আশরাফের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও  তারা গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৈয়দ আশরাফের মতো অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য ও সত্, দক্ষ রাজনীতিবিদের বিশেষ প্রয়োজন ছিল। তিনি এ পরিস্থিতিতে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থে ভূমিকা রাখতে পারতেন।

পারুল ধর্ষণের ঘটনায়  ড. কামালের উদ্বেগ

পৃথক বিবৃতিতে ড. কামাল হোসেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার পারুলের উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় বর্বরোচিত লোমহর্ষক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা প্রকাশ করেছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ঘটনা জাতি হিসেবে আমাদের অত্যন্ত হেয়প্রতিপন্ন করেছে।