দেশের মুদ্রণ ও প্রকাশনাশিল্পে ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২০, ২১:৩৯

দেশের প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ সরাসরিভাবে জীবিকা নির্বাহে মুদ্রণ খাতের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে এই খাতের বাজারের আকার প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। কোভিড-১৯ মহামারির সময়কালে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বাংলাদেশের মুদ্রণ ও প্রকাশনাশিল্পের সংকট ও প্রতিকার নির্ধারণ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির চেয়ারম্যান শহীদ সেরনিয়াবাত। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের টিকে থাকার জন্য সরকারি প্রণোদনার আহ্বান জানান তিনি। আলোচনায় ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ মোমেন সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, সরকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য উদ্যোক্তা এই সুবিধা পাচ্ছে না। বর্তমান অবস্থা উত্তরণে তিনি ব্যাংকগুলোকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্প, বিশেষ করে আমাদের এসএমই খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে এবং এ খাতের সার্বিক উন্নয়নে তিনি সরকারের নীতিসহায়তা, দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ প্রদান, শুল্ক কাঠামোর সংস্কার, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিতকরণের ওপর জোরারোপ করেন। 

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ মোমেন বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে মুদ্রণ শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকের ব্যবসা হুমকির মুখে পড়েছে। এ শিল্পের স্থানীয় উদ্যোক্তা ও উত্পাদনকারীদের বাঁচিয়ে রাখতে তিনি তাদের আর্থিক এবং নীতি-সহায়তার আহ্বান জানান। ওয়েবিনারে নির্ধারিত আলোচনায় মুদ্রণ ও প্রকাশনা শিল্প-সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা অংশ নেন। বাংলাদেশ পেপার ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ভরসা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এ খাতের উত্পাদিত পণ্যের বিক্রি ৭০ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমান অবস্থা উত্তরণে প্রণোদনা প্যাকেজের সুষম বণ্টনের প্রস্তাব করেন। বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সসোরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)-এর সভাপতি মো. আব্দুল কাদের খান বলেন, সরকার ঘোষিত প্রণোদনার প্যাকেজ হতে বিজিএমপিএমইর সদস্যবৃন্দের মধ্যে মাত্র এক জন ঋণসুবিধা পেয়েছেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণসহায়তা প্রাপ্তির সংখ্যা একেবারেই নগন্য। তিনি এ খাতের কাঁচা মাল আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক হার কমানোর দাবি জানান। চট্টগ্রাম কাগজ ও সেলোফোন অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ বেলাল বলেন, সামগ্রিকভাবে এ খাতের উন্নয়নে একটি সহায়ক নীতিমালা এখন সময়ের দাবি। ঢাকা চেম্বারের সহসভাপতি মোহাম্মদ বাশির উদ্দিন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য সব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মুদ্রণ শিল্পের উত্পাদিত পণ্যের চাহিদা মাত্রাতিরিক্তভাবে হ্রাস পেয়েছে, এমতাবস্থায় এ শিল্পের উদ্যোক্তাদের বেঁচে থাকার জন্য সরকারের আর্থিক প্রণোদনা একান্ত জরুরি। তিনি এ শিল্পের অসম  শুল্ক  কাঠামোর সংস্কার, ডিউটি ড্র-ব্যাক পদ্ধতির জটিলতা নিরসন এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান।