g নীরব চন্দন
আমার বয়স ত্রিশ বছর ছুঁইছুঁই। এই বয়সে বিয়ে না করাটা অনেকের কাছেই মহা অপরাধ। বিয়ের বয়সের সাথে সাথে চাকরির বয়সটাও পেরিয়ে যাচ্ছে। এদিকে আমার চাকরিও হচ্ছে না, বিয়েটাও হচ্ছে না—এসব ভেবে ভেবে আমার মাথার চুলগুলো উঠে যাচ্ছে। আর যে গুটিকয়েক চুল অবশিষ্ট আছে, সেগুলোও পেকে সাদা হয়ে যাচ্ছে। বেচারা চুলের আর কী দোষ! মাথাটা দিন-রাত টেনশন করে গেলে চুল কি আর সেখানে থাকতে চাইবে? না চাইবে না। তাই চুলগুলো নির্দ্বিধায় ঝরে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আমার কী করা উচিত—ভাবতে লাগলাম। অবশেষে একটা সমাধান পেয়ে গেলাম। ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের মধ্যেই আমার সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে। এত দাঙ্গা-হাঙ্গামার পর যদি ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ হতে পারে, তাহলে আমার বিয়ের ব্যাপারে সংলাপ হবে না কেন? কিন্তু সংলাপের জন্য তো আগে বাবাকে রাজি করাতে হবে। কী লজ্জার ব্যাপার! কিন্তু লজ্জা পেলে তো চলবে না। পরিবারের সবার সাথে কথা বলে সংলাপের দিন ধার্য করা হলো। সংলাপে বসলাম। বড় দুলাভাইও যোগ দিয়েছেন সংলাপে। এমনিতে তিনি আমাকে মোটেও সহ্য করতে পারেন না। তার দৃষ্টিতে আমি নাকি একটা বড় অপদার্থ। কিন্তু কী করে তাকে বুঝাব যে, আমার মধ্যেও কিছু পদার্থ আছে। বড় ভাই, মেজো ভাই, বড় ভাবি, মেজো ভাবি—সবাই সময়মতো সংলাপে উপস্থিত হলেন। কিন্তু তারা কেউ আমাকে সমর্থন করেন না। একমাত্র আমার মা ও ছোট বোনের সমর্থনে এতদিন এই বাড়িতে দু মুঠো খেয়ে বেঁচে আছি। কিন্তু তারাই আজ সময়মতো উপস্থিত হয়নি দেখে খুবই চিন্তিত ও বিচলিত হয়ে গেলাম। বুকটা কাঁপছে। কীভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না। অবশেষে সাহস করে বলেই ফেললাম, ‘আমার মনে হয়, আমার এবার বিয়ে করা উচিত।’ এমন কথা শুনে বড় দুলাভাই রেগে আগুন। বললেন, ‘এতদিন পর আপনার মনে হলো যে জীবনে বিয়ে করা দরকার। তা নিজে নিজেই তো বিয়েটা করে ফেললেই পারেন। আমাদের এখানে ডেকে আনার দরকার কী?’ তার কথা শেষ না হতেই বড় ভাবি বলে উঠলেন, ‘তা তোমাকে এই বয়সে পাত্রী দেবে কে?’ তোমার তো সবকিছুরই ডেট এক্সপেয়ার হয়ে গেছে।’ আমি শুধু ভাবছিলাম, মা কখন আসবে? হঠাত্ মায়ের গলা শুনে স্বস্তি পেলাম। ‘তবে কি ও চিরকাল বিয়েশাদি না করেই কাটিয়ে দেবে?’ মায়ের এমন প্রশ্নে সবাই চুপ। বাবা হঠাত্ বলে উঠলেন, ‘ওর বিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তার আগে একটা শর্ত পূরণ করতে হবে।’ সবাই জানতে চাইল, ‘শর্তটা কী?’ বাবা কিছুক্ষণ ভেবে বললেন, ‘ও যেদিন চুল ভর্তি মাথায় আমার সামনে এসে দাঁড়াতে পারবে, সেদিন ওর বিয়ে হবে। তার আগে নয়।’ বাবার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার মতো কেউ নেই আমাদের পরিবারে। অগত্যা বাবার সিদ্ধান্তটাকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মনে করে আজও মাথায় চুল গজানোর চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছি। কিন্তু বিয়ে... থাক, সে বিষয়ে নাই বা বললাম।
খিলক্ষেত, ঢাকা।
