মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জেসিকা চেন ওয়েইস বলেছেন, আমেরিকার সঙ্গে লড়াইয়ে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি)। সেই সঙ্গে দিনে দিনে বিষফোঁড়া হয়ে উঠছে চীনের জাতীয়তাবাদী রাজনীতি।
তিনি বলেন, উহানে করোনা ভাইরাসের মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর বেশ সংঘবদ্ধভাবে ছিল চীন। এরপরও দেশটিকে নানা আন্তর্জাতিক চাপও সামাল দিতে হয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ তুলেছিল, উহানের ল্যাব থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি।
ওয়াশিংটন পোস্টের এই ব্লগ রাইটার বলেন, যদিও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) জন্য দেশীয় সমর্থন গড়ে তোলাই ছিল বেইজিংয়ের জাতীয়তাবাদী চাপের মূল লক্ষ্য। আর এটিই ওয়াশিংটনের উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, যেমনভাবে এক দিক সামলে উঠতে অন্যদিকে কোভিড-১৯ মোকাবেলা প্রচেষ্টা থেকে সরে যেতে চীনের বিরুদ্ধে অপর অভিযোগ তোলা হয়েছে। যার ফলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে এবং করোনা মহামারি মোকাবেলায় বাধা সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয়তাবাদী চীনা দৃষ্টিভঙ্গির ফলে সমস্যা গুলো বেড়েই চলছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহমর্মিতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। ফলে মার্কিন নীতির বিকল্প রাস্তাগুলোকে সীমাবদ্ধ করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
রাজনীতিবিদ জেসিকা চেন আরও বলেন, কিন্তু সুদীর্ঘ বিবেচনায় জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অনেক প্রমাণ পাওয়া যাবে। যে কারণে চীনের বিভিন্ন প্রচেষ্টাগুলো বৈশ্বিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেনি। তবে চীনের কূটনৈতিক ব্যবস্থা এর জাতীয়তাবাদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যার ফলে বিশ্বের কাছে চীনের আবেদনগুলো সীমাবদ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, যদিও বেইজিং এসব সমস্যার স্বীকৃতি দিলেও জাতীয়তাবাদ ঠেকানো চীনা নেতৃত্বের কাছে অসম্ভব কিছু নয়, যদিও এটার জন্য বেশ মূল্য দিতে হবে। যেমন সম্প্রতিকালে জাতীয়তাবাদীদের আরও উত্তেজিত করে তুলেছে বেইজিং। যদিও চীনা স্বাস্থ্যমন্ত্রী করোনা ভাইরাস রেসপন্স মডেলকে ছড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাইওয়ানের সঙ্গে চীনা জাতীয়তাবাদীদের সংঘবদ্ধ হতে বাধা দিতে কোন রকম রকম শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সামরিক শীর্ষকর্তারা। এর মধ্যে ভারত, কাজাখিস্তান, এবং ভিয়েতনাম সম্পর্কে মনগড়া এবং বিভ্রান্তিকর মন্তব্য প্রচার করা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী বক্তব্যগুলোর কিছু কিছু ছড়িয়ে দেওয়া সত্ত্বেও দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৯ সালে তিয়েনামেন স্কয়ারের ক্র্যাকডাউনের পর থেকে বিশ্বব্যাপী চীনবিরোধী মনোভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: ব্যাংক-শপিংমলের মতো স্থানে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করল ফ্রান্স
তিনি তার ব্লগে আরও জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের ব্যর্থ প্রচেষ্টা সফল করতে অবশ্যই জনগণের মতামত নিতে হবে চীনা সরকারকে। আর মার্কিনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিতে অবশ্যই জনগণের মতামত সৃষ্টির ব্যয় গ্রহণে প্রস্তুত থাকতে হবে চীন সরকারকে। যদিও এই পদক্ষেপ চীন সরকারকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে, তারপরও এটি সিসিপি’র হাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
ইত্তেফাক/আরআই
