পাঠক সংকটে নাটোরের শতবর্ষী ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:০৬

বইয়ের মাঝে লুকিয়ে থাকা আনন্দ কুড়াতে পাঠকরা আর ভিড় করেন না লাইব্রেরিতে। পাঠক সংকটে প্রাণহীন অবস্থা দেশের অন্যতম প্রাচীন নাটোরের ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরির।

জানা যায়, নাটোরের মহারাজা জগদিন্দ্রনাথ রায়-এর আমন্ত্রণে ১৮৯৮ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটোরে আগমন ঘটে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শে ১৯০১ সালে সাহিত্যিক ও শিক্ষানুরাগী মহারাজা জগদিন্দ্র নাথ রায় প্রতিষ্ঠা করেন ভিক্টোরিয়া পাবলিক লাইব্রেরি। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই লাইব্রেরি হয়ে ওঠে শিক্ষিত সচেতন গণমানুষের প্রিয় পাঠস্থান। রাজা, জমিদার ও শিক্ষিত এলিট শ্রেণির আনুকূল্যে গড়ে ওঠে সংগ্রহশালা। ১৯৮৬ সালে তত্কালীন জেলা প্রশাসক জালাল উদ্দিন আহামেদের প্রচেষ্টায় বিদ্যমান নতুন ভবনের নির্মাণ কাজের মধ্য দিয়ে লাইব্রেরির নতুন যাত্রা শুরু হয়। পাঁচ শতাংশ জমির উপর দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমানে লাইব্রেরি ভবনের তৃতীয় তলাজুড়ে মিলনায়তন নির্মাণের কাজ এখন শেষের পথে।

বর্তমানে লাইব্রেরিতে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, বাংলাপিডিয়া, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসসহ ১২ হাজার বই রয়েছে। জেলা প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে একুশের বই মেলা আয়োজন ছাড়াও লাইব্রেরিতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস, বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়। রয়েছে সাহিত্য আসরের অনিয়মিত আয়োজন। প্রতি বছরের ডিসেম্বরে আলোচনা-সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে বার্ষিক সাধারণ সভাটি। গত বার্ষিক সাধারণ সভাতে পাঠকদের লাইব্রেরিমুখী করতে অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তাবনায় উঠে আসে বেশ কিছু প্রস্তাবনা। এরমধ্যে ই-বুকচালু ও শিক্ষার্থীদের জন্য বইপড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন উল্লেখযোগ্য। নির্বাহী কমিটিতে একই মুখের আগমন না ঘটিয়ে নতুন মুখ সংযোজন ও কমিটির মেয়াদ তিন বছর থেকে কমিয়ে দুই বছর করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

এসব প্রস্তাবনার ব্যাপারে লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মো: আলতাফ হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় কম্পিউটার সংগ্রহ করা গেলে ই-বুক এর পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এর আগে বই পড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেও পাঠক বৃদ্ধি পায়নি বলে জানান তিনি। লাইব্রেরির পাঠক রেজিস্টারে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে সাতজন পাঠকের উপস্থিতি, তাও একই ব্যক্তির আগমন এবং তারা মূলত সংবাদপত্রের পাঠক। প্রতিদিন ১টি ইংরেজিসহ লাইব্রেরিতে মোট ১০টি দৈনিক নেওয়া হয়। লাইব্রেরিয়ান অসীম অধিকারী প্রতিদিন গড়ে ৫-৭ জন সদস্য বই নেন বলে দাবি করেন।

পাঠাগারের নিয়মিত পাঠক গনেশ পাল বলেন, পড়ার নেশা থেকেই আসা। পাঠক না আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন পাঠ্য বই এর চাপে অস্থির, রয়েছে কোচিং এর চাপ, ওদের আর সময় নেই। ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিং-এর কারণে লাইব্রেরিতে পাঠক থাকছে না বলে লাইব্রেরির আজীবন সদস্য মুজিবুল হক নবী জানান। লাইব্রেরির আজীবন সদস্য মো. মখলেছুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক প্রকাশনা সংযোজনের মাধ্যমে সংগ্রহ বৃদ্ধিসহ গবেষণাধর্মী বই এর উপর গুরুত্ব প্রদান করে লাইব্রেরিকে যুগোপযোগী করতে পারলে অবশ্যই লাইব্রেরি জমজমাট হবে।