করোনা-পরবর্তী নিউ নরমাল পৃথিবী কেমন হবে? মানুষের জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হবে ইন্টারনেট, কর্মসংস্থান
হবে প্রযুক্তিভিত্তিক। বিজ্ঞানীরা বলছে, আগামীর পৃথিবীতে উদ্যোক্তা আর প্রযুক্তির জয়জয়কার। করোনার সময়ে মানুষ যখন ঘরে বন্দি প্রযুক্তিভিত্তিক সুপারশপগুলো মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গেছে, পিছিয়ে নেই উদ্যোক্তারাও। নিত্য নতুন উদ্ভাবন আর পণ্য বিপণনের মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করে দিচ্ছে। জগন্নাথ বিশ্বদ্যািলয়ের
উদীয়মান কয়েক তরুণ উদ্যোক্তাদের খবর জানাচ্ছেন আমাদের প্রতিনিধি— আহসান জোবায়ের
ব্যবসা করার ইচ্ছা আমার অনেক আগে থেকেই। তবে কি নিয়ে শুরু করা যায়, এটা ভাবতে আমার বেশ সময় লেগেছে। আমার জেলা টাঙ্গাইল। ভাবলাম শাড়ি নিয়ে কাজ করব কিন্তু পরমুহূর্তে মনে হলো এটা নিয়ে অনেকেই কাজ করে। তখন আমার মাথায় চমচমের আইডিয়াটা আসে। আমার বন্ধু আফজালের সঙ্গে শেয়ার করি। আফজাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। আমার আইডিয়াতে আফজাল রাজি হয়ে যায় এবং আমরা চমচম নিয়ে ঢাকাতে কাজ করা শুরু করি। বর্তমানে ঢাকাতেই আমাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি, ঢাকাতে আমরা হোম ডেলিভেরি দিচ্ছি। আমরা মানুষের বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পেরেছি। ইচ্ছা আছে আমাদের সার্ভিসের ব্যাপ্তি আরো বাড়ানোর। আস্তে আস্তে অন্যান্য জেলাতেও কাজ শুরু করব।
—মোহাম্মদ লাভলু
উদ্যোক্তা, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ীর চমচম; শিক্ষার্থী, ইসলামের ইতিহাস বিভাগ।
ছোটবেলা থেকেই জলরং নিয়ে খুব মাতামাতি করতাম। ২০১০-এ মেরিডিয়ান-আনন্দ আলো চিল্ড্রেন পেইন্টিংস অ্যাওয়ার্ডে পুরস্কার জিতি। কিন্তু কখনো ভাবিনি রংতুলির কাজ নিয়েই একটা ছোট ব্যবসা শুরু করব। বান্ধবী বিন্তি প্রথম আমাকে ‘রাঙা পিরাণ’-এর কথা ভাবতে বলে। শুরুর দিকে ইমা, হিয়া, আদিবার সহযোগিতায় ছোট এই ব্যবসার পথচলা শুরু। বন্ধু, জুনিয়ররাই ছিল প্রথম দিকের কাস্টমার। আমরা দু’জনই ব্যস্ততা আর কাজের চাপ খুব উপভোগ করি। আমার মনে হয় পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য উদ্যোক্তা হওয়ার বিকল্প কিছু নেই। আর উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজন নিজের দৃঢ় ইচ্ছা আর মনোবল। আমাদের এই ভিন্ন, রঙিন কাজের মাধ্যমেই সবার ভালোবাসা পেতে চাই।
—তাহমিনা ভুঁইয়া মুমু
প্রতিষ্ঠাতা, রাঙা পিরাণ; শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে শাড়ির সঙ্গে কাঠের গহনা বাঙালি সাজকে পরিপূর্ণ করে। শখের বশে কাঠের গহনার কাজ শুরু করি। হাতে আঁকানো বলে অন্য গহনা থেকে কিছুটা ইউনিক হয়, তাই চাহিদাও বেড়ে যায়। যারা গহনা নেন তারা প্রায় সবাই শিক্ষার্থী, তাদের কথা বিবেচনায় খুব কম দামে হাতে আঁকানো গহনাগুলো দিতে থাকি, ধীরে ধীরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদের বন্ধুর কাছেও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে। এভাবেই ইলোরা তার যাত্রা শুরু করে। ব্যবসার এবার সংযোজন করেছি হ্যান্ডপ্রিন্টের কুর্তি এবং পাঞ্জাবির কাজ। পড়াশোনা, সংগঠন সব মিলিয়ে হয়তো সেভাবে সময় দেওয়া হয়ে ওঠেনি কিন্তু সবার সহযোগিতা আমাকে কাজের জন্য অনুপ্রেরণা দিয়েছে। উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে সততা এবং পরিশ্রমের বিকল্প নেই।
—আনন্যামা নাসুহা নুহিন
স্বত্বাধিকারী, ইলোরা; শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ।
ছোটবেলা থেকেই চলছিল শখের আঁকিবুঁকি। আমার বন্ধুরা যখন টিউশনি করে টাকা ইনকাম করছিল তখন অনুভব করলাম আমারও কিছু একটা করা দরকার। কাউকে পড়া বোঝানোর ব্যাপারে আমি বরাবরই কাঁচা। একদিন হুট করে মাথায় চিন্তা আসল কাঠের গয়নার আইডিয়া। একটু আধটু যে আঁকতে পারি সেই সাহস থেকেই একটি পেইজ খুলে ফেললাম। সেখান থেকেই আমার ‘তরী’র যাত্রা শুরু। প্রথমে কাঠের গয়না দিয়ে শুরু করলাম। আস্তে আস্তে পেইজটা পরিচিতি পায় আমার বিভাগে। তারপর অন্য বিভাগগুলোতেও। ভার্সিটির গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা এবং ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন মানুষের কাছে পরিচিতি পায় ‘তরী’। এখন কাঠের গয়নার পাশাপাশি ড্রেসের ওপর হ্যান্ডপেইন্টেড কাজ করছি।
—রাফনিন সামান্থা
স্বত্বাধিকারী, তরী; শিক্ষার্থী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ।
আমি বেশ কয়েক দিন ধরে অনলাইনে জার্সি খুঁজছিলাম এবং পেয়েছিলাম কিন্তু দাম অনেক বেশি, কোয়ালিটি নিয়ে ডাউট ছিল। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট আর গোডাউন ঘুরে পেয়ে গেলাম কাঙ্ক্ষিত জার্সির ঠিকানা। তখনই মনে এলো, যে কেউ তার পছন্দের জার্সিটা সহজেই এবং অতি কম মূল্যে ভালো কোয়ালিটির মধ্যে পেয়ে যাক। এরপরই শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শ নিয়ে শুরু করলাম ‘জার্সি গ্যালারি বিডি’। শুরুতেই এই নামে একটা ফেসবুক গ্রুপ আর পেইজ খুলে ফেললাম। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জার্সি অর্ডার করছে। কুরিয়ারে হোম ডেলিভারি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভালো উদ্যোক্তা হতে হলে অবশ্যই সত্ এবং সময়ের প্রতি যত্নশীল হতে হবে।
—মিনার আল হাসান
স্বত্বাধিকারী, জার্সি গ্যালারি বিডি; শিক্ষার্থী, নৃবিজ্ঞান বিভাগ।
