নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ০০:১৪

নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল রবিবার বাংলাদেশের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়। এ উপলক্ষ্যে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে সকালে প্রয়াত লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, দুই পুত্র নিশাত, নিনিত, শাওনের পিতা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী এবং নুহাশপল্লীর কর্মচারী ও হুমায়ূন ভক্তসহ হিমু পরিবারের সদস্যরা কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ করেন। পরে তারা হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে এবার হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে সীমিত পরিসরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় শাওন সাংবাদিকদের বলেন, ‘নুহাশপল্লীতেই হুমায়ূন জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। কিন্তু পারিবারিক সমন্বয়হীনতার কারণে জাদুঘরটির নির্মাণকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। যেহেতু নুহাশপল্লী একটি পারিবারিক সম্পদ। এ রকম কিছু করতে হলে পরিবারের সবার মতামত নিতে হবে। আমি এখনো সবাইকে একত্র করতে পারিনি। আমরা চেষ্টা করছি পরিবারের সবার সঙ্গে আলোচনা করে জাদুঘরটি নির্মাণ করার।’ তবে তিনি নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, ‘নুহাশপল্লীতেই জাদুঘর হবে এটা নিশ্চিত করে বলছি।’

এদিকে রবিবার সকাল থেকে হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের নুহাশপল্লীতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হুমায়ূনভক্ত ও তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা ছুটে আসেন। তারা প্রিয় লেখকের কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং সৃজনশীল প্রকাশক ও পরিষদের কয়েক জন নেতা। এদের মধ্যে ছিলেন অন্য প্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজাহারুল ইসলাম, কাকলী প্রকাশনীর সেলিম আহমেদ, অন্বেষা প্রকাশনীর শাহাদাত্ হোসেন, কাঠপেন্সিল প্রকাশনীর এস কে চৌধুরী, অভিনেতা সিরাজুল কবির কমল প্রমুখ।

উল্লেখ্য, হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম কাজল। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা আর মা ছিলেন গৃহিণী। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। কথাসাহিত্যিক জাফর ইকবাল এবং কার্টুনিস্ট ও রম্যলেখক আহসান হাবীব তার ছোট ভাই। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে নিউ ইয়র্কের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।