কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা চাই

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২০, ২১:১৩

ইকবাল হাসান

প্রতি বছরে মুসলমানদের জন্য দুটি আনন্দের দিন নির্দিষ্ট করা হয়েছে। একটি  ঈদুল ফিতর, আরেকটি ঈদুল আজহা। এই  দুইটি দিনে মুসলিমরা  ধনী-গরিবনির্বিশেষে আনন্দে মেতে ওঠে। কখনো জাকাত, কখনো কোরবানির মাধ্যমে একে অন্যের অপূর্ণতা পূরণ করে একই কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয় সব মুসলমানকে। ২০২০ সালের ঈদুল ফিতর অনেকটা কোলাহলহীন, নিশ্চুপ কেটেছে করোনার জন্য। করোনা ভাইরাস দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ফলে ঈদুল আজহাও হয়তো আগের মতো কাটানো যাবে না। বাড়তি সুরক্ষার পাশাপাশি সবকিছুতেই বাড়তি নজর রাখতে হবে। কারণ পরিবারে এক জন করোনায় আক্রান্ত হলে পুরো পরিবারের ঈদ মাটি হওয়ার শামিল।

করোনার আক্রমণে যেন ঈদ নষ্ট না হয়, সেজন্য অনলাইনে গরুর হাট বসেছে যাতে মানুষের হাঁটে যেতে না হয় এবং আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। অনেকেই কোরবানির জন্য গরু খোঁজা শুরু করেছেন। অনেকের অনলাইনের এই হাঁট পছন্দ হয়নি তবুও বাধ্য হয়ে কিনবেন।

কোরবানিকে ঘিরে আমাদের যে উদ্দীপনা-আনন্দ সেটা হয়তো কোরবানি দিতে হবে আমাদের করোনাহীন শরীরের জন্য, কিন্তু যারা কোরবানির জন্য পশু কোরবানি দেবে তাদের নিয়ত ঠিক থাকলে অবশ্যই তাদের কোরবানির প্রাপ্য নেকি পাবেন। কারণ, আল্লাহ মহান, তিনিই সবকিছু ভালো বোঝেন।

করোনা মুক্ত থাকতে গেলে যেমন আমাদের নিজেদের দিকে খেয়াল রাখতে হবে, তেমনি কোরবানি-পরবর্তী সময়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহরে বাস করতে হলে কোরবানির বর্জ্যের প্রতি আমাদেরই খেয়াল রাখতে হবে। বর্তমান সময় ইন্টারনেটের। সেখান থেকে সৃষ্ট বর্জ্যের কথা যেমন ভাবতে হয় তেমনি করোনার জন্য সৃষ্ট হওয়া নতুন বর্জ্যের কথাও আমাদের  ভাবতে হয়। এই ই-বর্জ্য ও করোনার বর্জ্যের মতো আমাদের কোরবানির বর্জ্য নিয়েও ভাবতে হবে। কারণ আমরা শহরের নির্দিষ্ট স্থানেই কোরবানি দিই কিংবা নিজেদের বাড়ির পাশেই দিই কিছুক্ষণ পর গন্ধ ছড়াবেই। তখন জানালা, দরজা বন্ধ করে বসে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

প্রতিবার আমাদের যে ১২ সিটি করপোরেশন রয়েছে তারা তাদের কাজ সঠিকভাবে পালন করে থাকে। ফলে আমরা সুন্দর-বসবাসযোগ্য একটি শহর পাই। ২০১৯ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ৪০ হাজার বর্জ্য উত্পন্ন হয় কোরবানির সময়। এছাড়া বাদবাকি সিটি করপোরেশন তো রয়েছেই! তবে আশার কথা হচ্ছে—প্রতি বছর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কার হয়ে যায়। এই কাজে নিয়োজিত থাকেন দক্ষ কর্মীরা, যারা তাদের ঈদ নষ্ট করে আমাদের ঈদ ও শহরকে সুন্দর করেন।

২০২০ সালে ঢাকা দক্ষিণে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস ও ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম জয় লাভ করেছেন। তাদের জন্য এটি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ থাকবে তারা কত তাড়াতাড়ি এবং কতটা পরিষ্কার নগরী ঢাকাবাসীকে উপহার দিতে পারেন। তারা সফল হলেই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত নগরী পাব।

প্রতি বছর দুটো করে ঈদ আসবে, কিন্তু করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ হারিয়ে গেলে তাকে ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাতেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রত্যাশা থাকবে— ই-বর্জ্য, করোনার বর্জ্যের মতো কোরবানির বর্জ্যের পরিষ্কারেও  সিটি করপোরেশন ও অন্য যারা জড়িত থাকবেন তারা যথাযথ  ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

n লেখক :শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়