মির্জাপুরে বিদ্যালয়ের গেটে ময়লার স্তূপ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩২

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

মির্জাপুর উপজেলা সদরের পৌরসভার পুষ্টকামুরী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান গেট এবং মূল ভবনের দেয়াল যেন অঘোষিত ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দুর্গন্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। পাশেই স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেনের বাসভবন। 

উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উত্তর পাশে পুষ্টকামুরী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মির্জাপুর আফাজ উদ্দিন সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসা এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. একাব্বর হোসেনের বাসভবন। এখানে পৌরসভার একটি রাস্তা কাঁচা বাজার থেকে ডাক বাংলো হয়ে পুষ্টকামুরী গ্রামের দিকে সংযোগ হয়েছে। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত এক হাজার শিক্ষার্থী পাঠদান করে আসছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন প্রায় ৩০ জন। এখানে এমপির বাসভবন থাকায় বিভিন্ন এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীরাও নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে আশ-পাশের বাসিন্দারা পচা ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দুর্গন্ধে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার পক্ষ থেকে দেয়ালের গায়ে লাল কালি দিয়ে লেখা হয়েছে-‘এখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা নিষেধ। আদেশক্রমে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।’ কিন্তু এই সতর্ক বাণী কেউ না মেনে প্রতিনিয়তই পচা ময়লা-আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন রাস্তার উপর।

পুষ্টকামুরী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সরফুন নেছা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের দেয়াল সংলগ্ন পচা ময়লা-আবর্জনা ফেলার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পৌরমেয়রকে একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। তারপরও আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শিক্ষকসহ কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পচা দুর্গন্ধে ক্লাসে বসে পাঠদান করা দুষ্কর হয়ে উঠেছে। অনেকেই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিষয়টির দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পৌরসভার মেয়র মো. সাহাদত্ হোসেন সুমন বলেন, পরিবেশ রক্ষার জন্য সাধারণ লোকজনের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। পৌর শহরের আশ-পাশের বাসিন্দাদের রাস্তার উপর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সতর্কতা তৈরিতে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। অনেকে না বুঝেই রাস্তা ও দেয়াল ঘেঁষে ময়লা-আবর্জনা ফেলে থাকেন। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।