র্যাবের অভিযানের পর গুলশানের সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছেড়ে যাচ্ছেন রোগীরা। নতুন রোগী ভর্তিও বন্ধ রাখা হয়েছে। রোগী শূন্য হলে হাসপাতালটি সিলগালা করা হবে বলে র্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ পেয়ে রবিবার বিকালে গুলশানের এই বেসরকারি হাসপাতালটিতে অভিযান চালায় র্যাব। অনিয়মের অভিযোগে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবুল হাসনাত ও স্টোর কিপার শাহরিজ কবিরকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে নয় ধরনের অনিয়ম পাওয়ার কথা জানিয়েছেন র্যাব কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, বেসরকারি এই হাসপাতালে বাংলাদেশে অনুমোদনহীন করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি র্যাপিড টেস্ট করা হয়েছে, পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া প্রতিবেদন দিয়েছে তারা, করোনাভাইরাস নেগেটিভ রোগীকে পজিটিভ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রেখেছে, ভিন্ন ল্যাব থেকে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করিয়ে নিজেদের প্যাডে প্রতিবেদন দিয়েছে।
অনুমোদন না নিয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার অভিযোগ পেয়ে রবিবার এই হাসপাতালে অভিযান চালায় র্যাব। হাসপাতালের তথ্য কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, কোনো রোগী তারা ভর্তি নিচ্ছেন না। সকাল থেকে দুইজন এসেছিলেন তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর যারা ভর্তি ছিলেন তাদের মধ্যে পাঁচজন র্যাবের অভিযান পর থেকে বিকালের মধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন। গতকাল বিকেল পর্যন্ত হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১৪ জন এবং অন্য একজন সাধারণ রোগী ভর্তি ছিলেন।
সাহাবউদ্দিন মেডিকেলের এমডিসহ ৩ গ্রেফতার
অনুমোদন ছাড়া করোনা পরীক্ষা ও ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান থানায় র্যাব বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করে। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘জালিয়াতির এই মামলায় হাসপাতালের আটক দুই জন ও পলাতক একজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় সাহাবউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আল ইসলাম (৩৪), সহকারী পরিচালক ডা. মো. আবুল হাসনাত (৫২) এবং ইনভেন্টরি অফিসার শাহরিজ কবির সাদিরের (৩৩) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সালসহ অপর আসামি গ্রেফতার হয়েছেন।
