করোনার প্রভাবে সাভারের বিরুলিয়ার গোলাপ গ্রামসহ এ অঞ্চলের ফুল ব্যবসায় মারাত্মক ধস নেমেছে। উত্পাদিত ফুল বাজারজাত করতে না পারায় চাষিরা এখন দিশাহারা। করোনা পরিস্থিতির আগে বিরুলিয়া ইউনিয়নটি দূর-দূরান্ত থেকে আসা ফুলপ্রেমীদের আনাগোনায় মুখরিত ছিল। কিন্তু এখন সেখানে নীরব নিস্তবতা। করোনার আগে ফুলচাষিরা সারা দিন ফুলের বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকলেও এখন আর বাগানে তাদের দেখা যায় না। এলাকায় বসে না ফুলের হাট। করোনার প্রভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে এ অঞ্চলের শত শত ফুলচাষির।
দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকেই ফুলের চাহিদা প্রায় নেই বললেই চলে। গত পাঁচ মাস যাবত্ বাগানে ফুল ফুটলেও তা গাছেই মরে শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। ফুলের দোকান বন্ধ থাকায় নেই বিক্রি। চাষিরা মজুরি দিতে পারছেন না বাগানের শ্রমিকদের। প্রায় একই অবস্থা এ অঞ্চলের ফুল ব্যবসায়ীদেরও। তাই সাভারের ফুল বাগানগুলোতে ফুল যত ফুটছে ফুলচাষিদের লোকসান তত বাড়ছে। ফুল চাষ করে কিংবা ফুলের চারার নার্সারি করে বিপাকে পড়েছেন ফুলচাষিরা।
ফুলচাষি আনোয়ার হোসেন জানান, ‘ফুলকে কেন্দ্র করেই আমাদের সবকিছু। কিন্তু করোনার প্রভাবে আমরা পথে বসে গেছি। দীর্ঘদিন পরিবহন বন্ধ ও ফুলের চাহিদা না থাকায় গত পাঁচ মাস ধরে বাগানের কোনো ফুলই বিক্রি করতে পারিনি। বাধ্য হয়ে ফুল তুলে ফেলে দিতে হয়েছে। ফুল বেচাকেনা না থাকায় গাছেরও যত্ন নেওয়া হচ্ছে না। বাগানের শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারছি না। আনোয়ার হোসেনের মতো ফুলের চারার নার্সারি ও ফুল চাষ করে বিপাকে পড়েছেন সাভারের সাদুল্লাপুরের রহমত আলী, এখলাস মিয়া, কাতলাপুরের কবির হোসেন ও দোসাইদের আমিনুল হোসেন, আবুল খায়েরসহ বহু চাষি। ফুলের চাষ করে তাদের এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দ্রুত সরকারি সাহায্য-সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাভার উপজেলার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রবিউল আজাদ বলেন, সারা বছরই ফুলের চাহিদা থাকলেও চাষিরা মূলত বিভিন্ন দিবসকে সামনে রেখে ফুল চাষ করে থাকেন। তার মধ্যে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ফুলের চাহিদা বেড়ে যায়। ফুল চাষ করে উপজেলার অনেক চাষি স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। কিন্তু করোনার প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত এসব ফুলচাষিদের সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কম সুদে ব্যাংক ঋণও দেওয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এসআই
