একটা বিনামূল্যের সরকারি ঘরের জন্য দীর্ঘ তিন বছর অপেক্ষা করছেন রুবী বেগম। কিন্তু তা তিনি পাননি। অবশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ হারুন অর রশিদ তার মুক্তিযোদ্ধা ভাতা আর সিপিবি নওপাড়া শাখার উদ্যোগে রুবী বেগমের বাড়িতে নতুন ঘর উঠেছে। রুবী বেগম এখন ভীষণ খুশি। তার আর সরকারি ঘরের প্রয়োজন নেই।
রুবী বেগমের বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নওপাডা ইউনিয়নের কুড়ানিযার চর গ্রামে। সন্তান ও সম্পতিহীন রুবী বেগম স্বামী পরিত্যক্তা। ভাই-বোন কেউ নেই। মায়ের রেখে যাওয়া চার শতাংশ জমি আর রেখে যাওয়া ছাপড়া ঘর। নিজের ঘর বসবাস উপযোগী না থাকায় পরের ঘরে বসবাস করতেন তিনি। বিষয়টি বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ হারুন অর রশিদ এর নজরে আসে। এক মাসের মুক্তিযোদ্ধা ভাতার পুরো টাকা রুবী বেগমকে ঘর মেরামত করতে প্রদান করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এগিয়ে আসেন ঐ শিক্ষকের কয়েকজন ছাত্র ও সিপিবি নওপাড়া শাখার কমরেডগণ। শুরু হয় অসহায় রুবী বেগম এর বাড়ি ঘর তোলার কাজ। একজন টিন, একজন দিলেন ঘরের খুটি, একজন বাঁশ, দু’জন কাঠ ও অন্যান্যরা নগদ অর্থ। অবশেষে চার চালা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়। রুবী বেগমের কাছে রবিবার বিকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষাবিদ হারুন অর রশিদ ঘরটি বুঝে দেন।
এ সময় তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতা ছাড়াই প্রতি গ্রামে একটি করে এক বছরে দেশে ৬৮ হাজার পরিবারকে সামাজিক উদ্যোগে ঘর করে দেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রগতিশীল ও মানবিক গুণাবলী বিবেকবান মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন-বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ফরিদপুর জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মজুমদার, সিপিবি মধুখালী উপজেলা সম্পাদক শাহ্ কুতুবুজ্জামান, সিপিবি নওপাড়া শাখার সম্পাদক কমরেড আকমল মৃধাসহ প্রমুখ। রুবী বেগম বলেন, ‘ঘর পেয়ে তিনি ভীষণ খুশি।’
উল্লেখ্য, মধুখালী উপজেলার দূর্যোগ সহনীয় বাস গৃহ নির্মাণে উপকার ভোগী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকার দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টেম্বর উপকার ভোগী নির্বাচন ও গৃহ নির্মাণের জন্য এক নীতিমালা জারি করে।
জানা গেছে, ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলায় চলতি বছরে গৃহ নির্মাণের মোট ৭১ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৪০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ওই পরিমাণ টাকায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন থেকে মোট ২৪ টি পরিবারকে বাছাই করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাহাবউদ্দিন মেডিকেলের এমডিসহ তিনজন ৫দিনের রিমান্ডে
বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ এলাকায় যেসব দরিদ্র পরিবারের সামান্য জমি বা ভিটা রয়েছে কিন্তু টেকসই বসতি ঘর নেই তাদের জন্য ৮'শ বর্গ ফুট জায়গায় রান্না ঘর ও টয়লেটসহ একটি সেমিপাকা টিনসেড গৃহ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ টিআর কর্মসূচি ও অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা কর্মসূচির বিশেষ বরাদ্দ থেকে এসব গৃহ নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হিসেবে দারিদ্র বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, অসহায় পরিবারের জন্য টেকসই গৃহ নির্মাণ, জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, বিশেষ করে নারী শিশু প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী একশ বর্গ ফুট বিশিষ্ট ২ কক্ষ বেড রুম, ৬৪ বর্গ ফুট বিশিষ্ট রান্না ঘর, ৩৬ বর্গ ফুট বিশিষ্ট টয়লেট নির্মাণে কথা বলা হয়েছে। উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানসহ মোট ১১ জন কর্মকর্তা রয়েছে। হতদরিদ্র ব্যক্তি বাদেও হিজড়া, বেদে, বাউল আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী , অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা, বিধবা নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নিকট সুবিধা ভোগী নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তথ্য দিতে অস্বীকার করেন। এদিকে সরেজমিনে পরিদর্শনকালে নওপাড়া ইউনিয়নের কুড়ানিয়ার চর গ্রামের রুবী বেগম এবং গাজনা ইউনিয়নের গাজনা গ্রামের বাসিন্দা ভারতি রানী মন্ডলের সরকারি ঘর পাওয়ার সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা ঘর পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
ইত্তেফাক/এএএম
