সবজি

শিম

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২০:০২

 

অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ শীতকালীন সবজি। শিমে রয়েছে যথেষ্ট পুষ্টি এবং সুস্বাদুও বটে। প্রধানত দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, মিসর ও সুদানে প্রাচীনকাল থেকেই শিমের চাষ হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে সর্বাধিক চাষ হয়ে থাকে।

শিমগাছ কোমলাঙ্গী ও লতানো প্রকৃতির। বাংলাদেশে অসংখ্য জাতের শিম রয়েছে। কিন্তু এখনো এগুলোকে বৈজ্ঞানিকভাবে বাছাই করা হয়নি। আঞ্চলিক নামে পরিচিত অনেকগুলো জাতকে সাদৃশ্যপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে। জাতের মধ্যে বিরাইন্না, ঘৃত কাঞ্চন, কার্তিকা, নলডক, কাজল গৌরী, পুইট্টা, হাতিরবান, বৌকানী, আয়ুমী, কইভাজা, খৈয়া প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট একটি উন্নত জাতের শিম বের করেছে। এর নাম হচ্ছে ‘পুশা আলি প্রলিফিক’। এটি বাংলাদেশে আগাম ফল দেয় এবং ভালো ফলনও হয়। শিমের জাতভেদে কাণ্ড, পাতা, ফুল, ফসলের আকার-আকৃতি, বর্ণ ইত্যাদি রকমের হয়ে থাকে। শিম সব ধরনের মাটিতে চাষ করা যায়। তবে দোআঁশ ও বেলে দোআঁঁশ মাটিতে সবচেয়ে ভালো ফলন হয়।

পুষ্টিগুণে ভরপুর ও সুস্বাদু সবজি হলো শিম। আমিষ, ক্যালসিয়াম, লৌহ, ভিটামিন এবি ও সি সমৃদ্ধ। কচি শিমের ভাজি ও ভর্তা খুবই সুস্বাদু এবং কচি শিমের বিচিতে প্রচুর প্রোটিন ও শ্বেতসার থাকে বলে খাবার হিসেবে খুবই উপকারী। প্রতি ১০০ গ্রাম কচি শিমে ৩.৯ গ্রাম প্রোটিন, ৩১২ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন (ভিটামিন-এ), ৮.০ গ্রাম শ্বেতসার, ২১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ০.৭ গ্রাম স্নেহ, ৯.০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ০.০৬ মিলিগ্রাম রাইবোফ্লোভিন, ১.৭ মিলিগ্রাম লৌহ, ০.১ মিলিগ্রাম থায়ামিন এবং ০.৭ মিলিগ্রাম নায়াসিন রয়েছে। তাছাড়া শিমের পাকা বিচিতে যথেষ্ট পুষ্টিগুণ রয়েছে। পাকা বিচে ডাল বেশ সুস্বাদু। এছাড়া বিচির মধ্যে থাকে ফাইটা কেমিক্যাল, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। তাই স্বাস্থ্যের জন্য শিম খুবই উপকারী সবজি।