বিপিএল ২০১৯ হউক সফল ও নিষ্কলুষ

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৪

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স ও চিটাগাং ভাইকিংসের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের মধ্য দিয়া শুরু হইয়া গিয়াছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসর। ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হইবে ৮ই ফেব্রুয়ারি। অর্থাত্ এক মাসেরও অধিক সময় জুড়িয়া সারাদেশের ক্রিকেটামোদীরা উপভোগ করিবেন সাতটি দলের লড়াই। তবে কেবল বাংলাদেশের দর্শকই নহে, টেলিভিশন সমপ্রচারের মধ্য দিয়া সারা বিশ্বের ক্রিকেট দর্শকই বিপিএলের ম্যাচগুলি উপভোগ করিবেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই জমজমাট আসরে প্রথমবারের মতো খেলিবেন এবি ডি ভিলিয়ার্স, ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ, অ্যালেক্স হেলসের মতো নামিদামি ক্রিকেটাররা, যাহারা অন্যান্য ফরম্যাটের ন্যায় টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও মাস্টার ক্রিকেটার হিসাবে বিশ্বখ্যাত। আর বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ, মোস্তাফিজ প্রমুখ তো থাকিবেনই।

স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিজেদের তুলিয়া ধরিতে বিপিএল খুবই ভালো একটি মঞ্চ। বিশেষত উদীয়মান তরুণ ক্রিকেটাররা নিজেকে মেলিয়া ধরিবার জন্য এই প্রতিযোগিতাকে ভালোমতো কাজে লাগাইতে পারিবেন। ইহাছাড়া বিদেশি নামি ক্রিকেটারদের সঙ্গে একই ড্রেসিংরুমে সময় কাটানো নিঃসন্দেহে বিরাট এক অভিজ্ঞতার বিষয় হইবে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্যও ইহা একটি প্র্যাকটিস করিবার সুযোগ বটে। ফেব্রুয়ারি মাসেই রহিয়াছে নিউজিল্যান্ড সফর, মার্চ মাসে রহিয়াছে আয়ারল্যান্ড সফর এবং পরিশেষে জুন মাসে ইংল্যান্ডে রহিয়াছে ওয়ানডে ওয়ার্ল্ড কাপ ক্রিকেট। বড় ব্যাপার হইল, অন্য দুইটি ফরম্যাটের তুলনায় টিটোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য কম। ওয়ানডে ক্রিকেট র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ রহিয়াছে সপ্তম স্থানে, টেস্টে নবম স্থানে, কিন্তু টিটোয়েন্টি ক্রিকেটে রহিয়াছে ১০ম স্থানে। ফলে ২০২০ সালের টিটোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সরাসরি স্থান পায় নাই, অন্য দলগুলির সঙ্গে পৃথকভাবে প্রতিযোগিতা করিয়া বিশ্বকাপের ১২টি দলের অন্তর্ভুক্ত হইতে হইবে। ২০০৬ সাল হইতে বাংলাদেশ টিটোয়েন্টি ক্রিকেট খেলিতেছে, কিন্তু এই খেলাটি এখনও ঠিকঠাক রপ্ত করিতে পারে নাই। ২০১৮ সালে ১৬টি ম্যাচ খেলিয়া মাত্র পাঁচটিতে জয়লাভ করিয়াছে। এই বত্সরই আফগানিস্তানের সহিত ০-৩ ফলাফলে সিরিজ হারিয়া বাংলাদেশকে লজ্জাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হইতে হইয়াছে। এই বারের বিপিএল হইতে পারে সেইসব দুর্বলতা কাটাইয়া প্রস্তুত হইবার উপলক্ষ ।   

তবে বিপিএলের কিছু মন্দ ইতিহাস রহিয়াছে। যেমন প্রথম দিকে খেলোয়াড়দের পাওনা যথাসময়ে মিটানো হয় নাই। তাহা লইয়া খেলোয়াড়দের ক্ষোভ ছিল। ইতিপূর্বে বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটিয়াছে। একটি দলের বয়কটের মুখে একটি ম্যাচ পণ্ড হইবার উপক্রম হইয়াছিল। অর্থাত্ বিপিএল পরিচালনায় ঘাটতি ও অদক্ষতা রহিয়াছে। ইহার মূল কারণ সম্ভবত এই ধরনের প্রতিযোগিতায় টাকাপয়সার ছড়াছড়ি হইয়া থাকে। ইহার সুযোগে অশুভ শক্তি প্রতিযোগিতায় প্রবেশ করিয়া থাকে। অতীতে দেখা গিয়াছে, প্রভাবশালীরা অনেকসময় ফলাফলকে প্রভাবিত করিবার চেষ্টা করিয়াছেন। এইসকল অপচর্চা হইতে বিপিএলকে মুক্ত রাখিতে হইবে। ক্রীড়াজগতের যে সহজাত সৌন্দর্য রহিয়াছে এবং মানুষকে বিনোদিত ও উদ্দীপ্ত করিবার যে ক্ষমতা ক্রিকেটের রহিয়াছে, তাহাকে বিকশিত হইতে দিতে হইবে। সর্বোপরি, ক্রিকেটাররা যেন এইরূপ বৃহত্তর প্রতিযোগিতায় নিজেদের পরীক্ষা দিয়া সম্মুখে অগ্রবর্তী হইতে পারে, তাহার ব্যবস্থা করিয়া দিতে হইবে।