টেলিভিশনে সন্ধ্যার ৬টার খবরে নতুন বছরের প্রথম দিন স্কুলগুলোতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ অনুষ্ঠান দেখতে দেখতে মনে পড়ছিল, আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন পরবর্তী ক্লাস থেকে যে পাস করত, তার কাছ থেকে অর্ধেক দামে পুরনো বই কিনে নিতাম। স্কুলে কিছু প্রকাশকের এজেন্ট এসে প্রধানশিক্ষকের কাছে তাদের প্রকাশিত বই ধরিয়ে দিত। স্কুল কর্তৃপক্ষ ঐ সমস্ত বইয়ের একটি তালিকা আমাদের দিতেন। বুক লিস্ট পাওয়ার পর লাইব্রেরি থেকে বই কিনতে হতো। এমন কিছু বই ছিল যা লাইব্রেরিতে দুষ্প্র্রাপ্য—যেমন যাদব চন্দ্রের পাটিগণিত, কেপি বসুর জ্যামিতি অ্যালজেবরা, বাংলা ব্যাকরণ—এই বইগুলি বছরের পর বছর এক শিক্ষার্থীর হাত থেকে আরেক শিক্ষার্থীর হাতে যেত। আজ এই বই বিতরণ অনুষ্ঠান দেখে আনন্দে আবেগে আমার চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরেছে আর সেই পানিতে আমার সাদা পাঞ্জাবিটা ভিজে গিয়েছে। ৭১ বছর বয়সে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নতুন বই হাতে আনন্দ-উল্লাস ভাগাভাগি করে নেই আমিও। মহান আল্লাহর কাছে শিক্ষার্থীদের জন্য আমি প্রাণভরে দোয়া করছি।
খন্দকার কামরুজ্জামান
৩৬৩/১০ উত্তর পীরেরবাগ, মিরপুর, ঢাকা ১২১৬
