জাইকা স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নিরাপদ পিপিই সমর্থন করে

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২০, ১৬:০৬

মহামারি কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য ৩ হাজার সেট ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) ঢাকা, কক্সবাজার ও নরসিংদীর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত উচ্চ মানের এসব পিপিই পাঠানো হয়। 

ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য এই গাউনের ব্যবহৃত কাপড় শুধুমাত্র ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কঠোর মান দ্বারা নিশ্চিত করা হয়। এছাড়াও জাপানের নেতৃস্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে চূড়ান্ত পণ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সরেজমিনে পরীক্ষা করা হয়েছে।  

কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ার সাথে মন্ত্রণালয় এবং উন্নয়ন সহযোগীরা দেশে নিম্নমানের পিপিই এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছে। এরপর ডিজিডিএ’র শক্তিশালী নেতৃত্বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ইউএসএইড, কে২ এবং জাইকাকে নিয়ে পিপিই’র জন্য একটি গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যে একটি কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়।  

আরও পড়ুন: সশস্ত্র বাহিনীকে কোভিড-১৯ মোকাবিলার সরঞ্জাম প্রদান মার্কিন দূতাবাসের

বিশেষ করে, জাইকা জাপানের শীর্ষ গার্মেন্টস পরিদর্শন কোম্পানি কে২ এর সাথে যুক্ত করেছে, যারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।  বিশেষ করে কে২ পিপিই-এর সরেজমিনে পরিদর্শন এবং স্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারী স্নোটেক্স গ্রুপকে প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।  

কে২ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব তোশিহিদে ইউদা এই প্রকল্পের প্রতি তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি এমন কিছু করতে চেয়েছিলাম যা এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে অবদান রাখবে, কারণ তারা আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। নিরাপদ পিপিই তৈরি শুধু স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যই নয়, বাংলাদেশে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনাও তৈরি করতে সাহায্য করেছে।’ 

ইতিমধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন বলে জানান তিনি। 

জাইকা এবং কে২ এর সমর্থনে গাউন তৈরিকারী স্থানীয় কোম্পানি স্নোটেক্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এসএম খালেদ বলেন, ‘বাজারে একটি জায়গা খুঁজে পেয়ে এবং আমাদের শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ চাকরির ব্যবস্থা করে আমরা খুবই আনন্দিত। আমরা সবসময় আমাদের জাতি ও বিশ্বের জন্য ভাল কিছু করার চেষ্টা করি এবং কোভিড- ১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমরা গর্বিত।’  

জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি জনাব ইউহো হায়াকাওয়া বলেন, ‘গাউনগুলো আমাদের অক্লান্ত যৌথ কাজের ফল।  ডিজিডিএ, ডব্লিএইচও, বুয়েট, ইউএসএইড, কে২, স্নোটেক্স গ্রুপ এবং জাইকার সহযোগিতায় পিপিই-এর মান নিশ্চিত করার জন্য একটি বাস্তব ফলাফল এসেছে। আমি আশা করি, এর ফলে শুধু স্বাস্থ্যকর্মী এবং গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির কর্মীরাই নয়, বাংলাদেশের সকল মানুষও উপকৃত হবে।  

এটি রপ্তানি বাজারের জন্য আরও একটি পথ প্রশস্ত করবে এবং এই দেশে আরও সুবিধা নিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

ইত্তেফাক/এএএম