কর সুবিধাপ্রাপ্তদের ফাইলে বিশেষ নিরীক্ষার উদ্যোগ

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫২

রিয়াদ হোসেন

সরকার দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কর অবকাশ, কিংবা হ্রাসকৃত হারে কর প্রদানের সুযোগ দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তি করদাতারাও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতের আয়ের উপর হ্রাসকৃত হারে কর প্রদানের সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে এ সুবিধার আড়ালে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর সুবিধাপ্রাপ্তদের আয়কর ফাইল আলাদাভাবে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুয়া সম্পদ সৃষ্টি করে কর ফাঁকি দিচ্ছে কিনা কিংবা কী কী উপায়ে এসব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে, তা ধরতে একটি বিশেষায়িত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি এনবিআরের বোর্ড সভায় এ ইস্যুটি আলোচনায় আসে। ওই সভায় এনবিআর চেয়ারম্যানের নির্দেশনার পর গত ২০ ডিসেম্বর একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করদাতার ভুয়া সম্পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটিরই মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশেরও গুরুতর অভিযোগ এসেছে। এ বিষয়টি নজরে আসার পর তা উদ্ঘাটনে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া। এরপর এনবিআর সদস্য রওশন আরা আক্তারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সূত্র জানায়, গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত এনবিআরের ওই বোর্ড সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান অনেক আয়কর অফিসে অনিয়মের অভিযোগের ইস্যুটি আলোচনায় আনেন। তিনি বলেন, যারা বাস্তবের সঙ্গে মিল না থাকার পরও আয়কর নথিতে ভুয়া সম্পদ সৃষ্টি করে থাকে- এরকম কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরই তিনি এটি ধরতে কমিটি গঠনের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করেন। এর ভিত্তিতে গত ২০ ডিসেম্বর কমিটি গঠন করা হয়।

অনেক ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক করদাতা কর অবকাশ সুবিধা কিংবা হ্রাসকৃত হারে কর প্রদানের সুবিধা পেয়ে থাকেন। সাধারণত অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকা, বড় অবকাঠামো খাত, আইটি খাত কিংবা বিদ্যুত্ খাতের মতো প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর অবকাশ সুবিধা কিংবা হ্রাসকৃত হারে কর প্রদানের সুযোগ দিয়ে থাকে। কিছু ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে কৃষি খাতের আয়, মত্স্য, পোল্ট্রি ও পশুপালন খাত হ্রাসকৃত হারে কর প্রদানের সুবিধা পেয়ে থাকে।  অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি অন্য খাতের আয়কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ওই আয় (যেখানে করের হার বেশি) কম কর প্রদান করতে হয়- এমন খাতে স্থানান্তর করে। অর্থাত্ কর সুবিধাপ্রাপ্ত খাতে কৃত্রিমভাবে আয় কিংবা সম্পদ বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের আয়কর ফাঁকি দেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অনেক সময় একটি প্রতিষ্ঠান কর অবকাশ সুবিধা কিংবা হ্রাসকৃত হারে কর প্রদানের সুবিধা প্রাপ্ত সময়ে অনেক বেশি আয় করেছে। এই সুবিধার মেয়াদকাল শেষ হওয়ার পর যখন প্রমিত হারে কর প্রদানের সময় এলো, তখন দেখা যাচ্ছে তাদের আয় অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। শুধু তা-ই নয়, অনেক ক্ষেত্রে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত হচ্ছে। এর অর্থ হলো, এসব ফাইলে কোনো গলদ থাকতে পারে। তিনি বলেন, কমিটি এসব ফাইল বিশেষভাবে নিরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করবে। একই সঙ্গে এর অপব্যবহার রোধে করণীয় বিষয়েও সুপারিশ করবে।