চুয়াডাঙ্গায় বেগুনি রঙের ধানের চাষ

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ১৬:৫৯

চুয়াডাঙ্গায় বেগুনি রঙের ধানের চাষ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন কৃষক সাদেক আলী। এক বিঘা জমিতে বেগুনি রঙের ধান দেখতে প্রতিদিনই উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। ২৭টি ধান বীজ থেকে পর্যায়ক্রমে বীজ তৈরি করে এক বিঘা জমিতে এই ধান চাষ করেছেন বলে জানান কৃষক ছাদেক। 

চুয়াডাঙ্গা দর্শনা থানার বেগমপুর ইউনিয়নের দোস্ত গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ছাদেক আলী বাড়ির সামনের মাঠে জৈষ্ঠ্য মাসের শেষের দিকে রোপন করেন এক বিঘা বেগুনি রঙের ধানের চারা। 

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, চারপাশে সবুজ বোরো ধানের মধ্যে বেগুনি ধানের জমি সত্যি দেখার মতো। সাধারণ জাতের ধানের চেয়ে এই ধানের একটি ছড়ায় ২৫ থেকে ২৭টি কুশি গজিয়েছে। 

ছাদেক আলী জানান, গতবছর ঝিনাইদহে বেগুনি রঙের ধানচাষ হচ্ছে জানতে পেরে জনৈক্য চাষির মাঠে যাই। সেই বীজ দিয়ে গত শীতে বীজতলা তৈরি করি। যা থেকে ১০ কেজি ধান উৎপাদন হয়। সেই ধান পুনরায় বীজতলায় ফেলে চারা তৈরি করি। সেই চারা দিয়ে জৈষ্ঠ্য মাসের শেষের দিকে এক বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছিলাম। যদিও এখনও ধান পেকে ঘরে আসতে ভাদ্রমাস লেগে যাবে। ধান ঘরে না উঠতেই অনেকেই বীজ নেওয়ার জন্য বলে রেখেছে। 

আরও পড়ুন: আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ট্রানজিট চুক্তির প্রথম চালান নিয়ে গেলো ভারত

গ্রামের চাষী, আবুসালেহ, মিজানুর, খালেক, আত্তাব, জমির, রাশেদ, রহিমসহ অনেকেই বলেন, গতানুগতিক ধান চাষ নিয়ে কারো মনে তেমন কোন কৌতুহল নেই। তবে ছাদেকের বেগুনি রঙের ধানের জমি দেখতে প্রতিদিনই লোক আসছে। তার কাছ থেকে বীজ নিয়ে অন্তত একবার চাষ করার ইচ্ছা আছে।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলী হাসান বলেন, ঝিনইদহ এবং রংপুর এলাকায় এই ধানের চাষ হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের চাষীরা খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষে এধানের চাষ করে থাকেন। তবে এ জেলাতে পারিবারিক খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষে এ ধানের চাষ এখনও শুরু হয়নি। শখের বসত হয়তো কেউ লাগিয়ে থাকতে পারে। জেলাতে কতটুকু বেগুনি রঙের ধানচাষ হয়েছে এমন কোনো তথ্য জানা নেই। চাল দেখতে একটু বেগুনি রঙের হবে। 

ইত্তেফাক/এসি