নোয়াখালীতে ধর্ষিতাকে দেখতে গেলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

দলীয় শৃঙ্খলার অভাবে বিএনপি নির্বাচনে শক্ত প্রতিরোধ গড়তে পারেনি ---------- মির্জা ফখরুল

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪২

সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচনের পূর্বে, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচনের পরবর্তীতে সহিংসতায় অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে ও পঙ্গু হয়েছে। এমনকি আমার বোন নোয়াখালীতে ধর্ষিত পর্যন্ত হয়েছে। আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি, তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং জনগণের কাছে বিচার দিচ্ছি। গতকাল শনিবার দুপুরে তিনি ঐক্যফ্রন্ট নেতাদেরকে সঙ্গে নিয়ে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগী ওই  নারীকে  দেখতে যান । ওই সময় ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদেরকে সান্ত্বনা দেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস  প্রদান শেষে  তিনি সাংবাদিকদেরকে এসব কথা বলেন।

পরে বিকালে নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত‘ প্রহসনের    নির্বাচন উত্তর রাজনৈতিক সহিংসতা, গৃহবধূ ধর্ষণ  এবং মানবাধিকারের চরম লংঘন’ বিষয়ক  এক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মক্তব্য করে  বলেছেন, দলীয় শৃঙ্খলার অভাবে বিএনপি নির্বাচনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি । ‘১৯৭১ সালে যেভাবে পাকিস্তান বাহিনী এদেশের মানুষের ওপর ঝঁপিয়ে পড়েছিল ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে সেই একই কায়দায় সরকার তার সমস্ত প্রশাসনকে নিয়ে মানুষের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল এবং আমাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে গেল। আমরা বাধা দিতে পারিনি। আমরা মরার আগেই মরে গেছি।

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের দিন বার বার বিভিন্ন জায়গায় ছুটে গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদেরকে জেগে উঠার আহবান জানানোর পরও নিজেদের মধ্যে শৃঙ্খলা না থাকার কারণে আমাদের অধিকার রক্ষা করা যায়নি।  সভায় সভাপতিত্ব  করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান।

এ সময় জেএসডি সভাপতি আ.স.ম আবদুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান  মো: শাহজাহান, বরকত উল্লা ভুলু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন,  শহিদ উদ্দিন এ্যানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশের প্রশাসন এখন সম্পূর্ণভাবে গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। শনিবার সকালে নোয়াখালী যাওয়ার পথে কুমিল্লার আলেখারচরে একটি হোটেলে যাত্রাবিরতিকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

নির্বাচনের পর সরকার নিষ্ঠুর

আচরণ বৃদ্ধি করেছে

এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর মহাডাকাতির নির্বাচনের পর সরকার এখন জনগণ, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের ওপর নিষ্ঠুর আচরণ বৃদ্ধি করেছে। নির্বাচন বিষয়ে সরকারের মহাজালিয়াতি নিয়ে কেউ কোনো সমালোচনা না করতে পারে, সেজন্যই সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে আগেভাগেই কালাকানুন তৈরি করা হয়েছিল। তবে প্রচণ্ড দমন-নীতির মধ্যেও বেশকিছু নির্ভীক সাংবাদিক সাহসী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে।

গতকাল এক বিবৃতিতে ফখরুল বলেন,গত ৩০ ডিসেম্বর  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাংলা ট্রিবিউনের খুলনা প্রতিনিধি ও খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ সাংবাদিক হেদায়েত হোসেনকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেওয়া, পাশাপাশি একই মামলায় দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার রাশিদুল হাসানকেও আসামি করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।