করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আগামী বছরের শুরুতে আমেরিকানদের দেহে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োগের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দেশীয় কোম্পানি ফাইজার এবং জার্মানির বায়োএনটেকের সঙ্গে ১৯৫ কোটি ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ভ্যাকসিন উত্পাদন জোরদার, থেরাপি এবং টেস্টের উন্নয়নে চলমান কার্যক্রমে এটি একটি বিরাট বিনিয়োগের চুক্তি।
ফাইজার এবং বায়োএনটেক একত্রে ওষুধ উদ্ভাবন করছে উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অঙ্গীকার অনুযায়ী আমেরিকার জনগণ বিনা মূল্যে ভবিষ্যত্ ভ্যাকসিন নিতে পারবে। চুক্তি অনুযায়ী ভ্যাকসিনটি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ডোজ পাবে। চুক্তিতে দুইটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি ৫০ কোটি ডোজ কেনার সুযোগ রয়েছে। ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে সম্মুখ সারিতে থাকা বায়োএনটেক ও ফাইজার চলতি মাসের শেষ দিকে স্বাস্থ্যবান ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের মাঝে ভ্যাকসিনটি ট্রায়েলের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। তারা আশা করছে পরীক্ষা সফল হলে চলতি বছরের অক্টোবরে তারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জরুরি অনুমোদন পাবেন। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র নোভাভাক্সের সঙ্গে ১০ কোটি ডোজ পেতে ১৬০ কোটি ডলারের চুক্তি করেছে। এর আগে মে মাসে অস্ট্রাজেনিকার ভ্যাকসিন পেতে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে ১২০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র জনসন অ্যান্ড জনসনের ভ্যাকসিনের জন্য ৪৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং মর্ডানার সঙ্গে ৪৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার ও ইমার্জেন্ট বায়োসলিউশনের সঙ্গে ৬২ কোটি ৮০ লাখ ডলারের চুক্তি করেছে। বিশ্বে বর্তমানে ২০০রও বেশি ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রসর হচ্ছে। এদের মধ্যে প্রায় দুই ডজন ক্লিনিক্যাল পর্যায়ে মানবদেহে পরীক্ষার অবস্থায় রয়েছে।
