বরিশালে ডাক্তারের ভুলে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৪৫

হূদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন ঝালকাঠীর কাঠালিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান (৬৫)। এছাড়াও এই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া স্থানীয় সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল নগরীর রূপাতলী আবদুল্লাহ হাসপাতালের মালিক ডা. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।

 মৃত আব্দুর রহমানের ভাগ্নে জাহিদুল হক জানান, আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে হূদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে তাকে নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা ডা. হুমায়ুন কবিরের কাছে যান। এই সময় তার মামা মূল রাস্তা থেকে পায়ে হেঁটে ডাক্তারের কক্ষে যান এবং তিনি স্বাভাবিকভাবেই কথা বলছিলেন। ডাক্তার তাকে ৬ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে বলে। একই সাথে চিকিত্সক তাকে পরপর দুটি ইনজেকশন পুশ করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট বের হওয়ার আগেই ইনজেকশন পুশ করার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে তার মামা আব্দুর রহমান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তারপরও ডাক্তার হুমায়ুন কবির মৃত রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ ৩ হাজার এবং ইনজেকশন বাবদ ৬ হাজার টাকা নেয়।

জাহিদুল হক অভিযোগ করেন, আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর স্বজনরা চিকিত্সকের কাছে তার মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে উল্টো ডাক্তার তাদের ভয়ভীতি দেখায়। এই সময় তারা দ্রুত আব্দুর রহমানের মরহেদ নিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকরা ওই হাসপাতালে গিয়ে রোগীর মৃত্যুর কারণ এবং পুশ করা ইনজেকশন মেয়াদোত্তীর্ণ কিনা জানতে চান ডাক্তার হুমায়ুন কবিরের কাছে। এই সময় ডাক্তার হুমায়ুন কবির আঞ্চলিক পত্রিকার সাংবাদিক মো. রাসেল ও মো. রাতুলকে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে জানতে আবদুল্লাহ হাসপাতালে কল করা হলে ডা. হুমায়ুন কবিরের সহকারী পরিচয়ে মো. খলিল নামে একজন ব্যস্ততার অযুহাত দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম জানান, রূপাতলীস্থ আবদুল্লাহ হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তিনি।