দুধের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অধিক উৎপাদন দক্ষতা ও প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মহিষ লালন-পালনকারী খামারীদের দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে চিকিৎসা সামগ্রী। উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪৪ জন খামারীর লালন-পালন করা প্রায় সাড়ে তিন হাজার মহিষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এসব চিকিৎসা সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার মহিষ লালন-পালনকারী সকল খামারীরা এসব সুবিধা পাবেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের (২য় পর্যায়) আওতায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর খামারীদের এই সুবিধা দিচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুধের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অধিক উৎপাদন দক্ষতা ও প্রজনন ক্ষমতা সম্পন্ন মহিষের জাত উন্নয়ন এবং মহিষের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মহিষ উন্নয়ন প্রকল্প নামে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
এ প্রকল্পের ২য় পর্যায়ে উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার ৪৪ জন খামারীকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মহিষ লালন-পালন করার জন্য ভিটামিন ও কৃমির ট্যাবলেট দেওয়া হয়। এর আগে ৩০ জন খামারীকে মহিষ লালন-পালন সংক্রান্ত তিন দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এদের খামারে দুই হাজার ৫১৩টি মহিষ লালন-পালন করছেন। এসব প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত প্রত্যেক খামারীকে ৫ কেজি ভিটামিন ও ২২টি করে কৃমির ট্যাবলেট দেওয়া হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণ বহির্ভূত একটি মহিষের বাথানের ৬২৩টি মহিষের জন্য ৮ জন খামারীকে ৩০২ কেজি ভিটামিন ও এক হাজার ৫০২ টি কৃমির ট্যাবলেট এবং ২০টি মহিষের জন্য ৬ জন খামারীকে ১১ কেজি ভিটামিন দেওয়া হয়।
মো: সেলিম, সিরাজ, লোকমান দালাল, জামাল, নুরনবী হাওলাদারসহ কয়েকজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত খামারী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় মহিষ লালন-পালন করে আসছে। এ জন্য তারা কোন প্রশিক্ষণ পাননি। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এই প্রশিক্ষণে রোগ নির্ণয়ের লক্ষণসহ ঔষধ প্রয়োগের ধারণা দেওয়া হয়। এতে তারা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং মহিষ লালন-পালন করতে তাদের অনেক সুবিধা হবে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬ হাজার মহিষ লালন-পালন করছে খামারীরা। একটি দেশীয় জাতের মহিষ দৈনিক এক থেকে তিন লিটার দুধ দিয়ে থাকে। কিছু কিছু উন্নত জাতের মহিষ আছে যেগুলো দৈনিক ৮ থেকে ১০ লিটার পর্যন্ত দুধ দিয়ে থাকে। এসব উন্নত জাতের ষাঁড় এনে ক্রস ব্রিডিংয়ের মাধ্যমে অধিক দুধ উৎপাদনকারী মহিষের বংশবিস্তার করা হবে। পাশাপাশি এখন যে মহিষ রয়েছে, সেগুলোর স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো হবে। এই জন্য এ প্রকল্পের আওতায় ৬ মাসের উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে একজন মহিষের কৃত্রিম প্রজননকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উন্নত জাতের মহিষের বীজ দ্বারা দেশী মহিষগুলোকে কৃত্রিম প্রজনন করানো হবে। এর ফলে মহিষের দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়াও অধিক দুগ্ধ উৎপাদনে মহিষের ভূমিকা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, মহিষ খামারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারীরা প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে মহিষ লালন-পালন করার জন্য এসব সুবিধা পাবেন বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এমএএম
