রৌমারী ও রাজিবপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, পানিবন্দি প্রায় ২ লাখ মানুষ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ১৭:২৭

ভারতের আসাম, মেঘালয় প্রদেশের বন্যার পানি ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে কারণে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি তৃতীয় বারের মতো অবনতি হয়ে দুই উপজেলার প্রায় ২ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এই দুই উপজেলার সিংহভাগ ভাগ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ায় শুকনা খাবার ও পশু খাদ্যের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে উপজেলা দুটির সঙ্গে ইউনিয়নগুলোর সড়ক যোগাযোগ। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড, কুড়িগ্রামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে। 

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সরেজমিন, রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, চরশৌলমারী, বন্দবেড়, যাদুরচর ও রৌমারী সদর  ইউনিনের ৯২টি গ্রামের এক লাখ  ৪০ হাজার মানুষ ও রাজিবপুর উপজেলার তিন ইউনিয়নের ৪২টি গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও পশু খাদ্যের জন্য হাহাকার চলছে বন্যা কবলিত মানুষগুলোর মধ্যে। 

আরও পড়ুন: আজ বাঙালির মহানায়ক উত্তমকুমারের মৃত্যুবার্ষিকী

রৌমারী উপজেলার দ্বিতীয় দফা বন্যায় শহর রক্ষা বাঁধের জলিলের বাড়ি নামকস্থানে ভেঙে গেছে। রাজিবপুরের  কোদালকাটি নামক দুটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া খনজনমারা বেঁড়িবাঁধের  তিনটি, ঝগড়ারচর বেঁড়িবাঁধের দুইটি, সাহেবের আলগা বেঁড়িবাঁধের দুইটি স্থানে গত বছর বন্যা ভেঙ্গে গেছে। 

উপজেলার উত্তর বাগুয়ারচর গ্রামের আনছের আলী, মাইদুল, আনছু মিয়া বলেন, এ বছর বারে বারে বন্যার পানি বাড়ায় আমাগো ঘর বাড়ি তলায়া গেছে, গরু বাছুর পোলাপান নিয়া রাস্তার ওপর আশ্রয় নিছি, কোনো কাজ কাম নাই, খাইয়া না খাইয়া দিন যাইতেছে আমাগো। সব সময় চিন্তায় থাকি নদীর কাছারে বাড়ি কোসুম যে বাড়ি ঘর নদীতে ভাঙ্গা নিয়া যায়। অমাগো ধান, পাট কাট পার পাড়ি নাই, বন্যার পানিতে তলাইয়া গেছে।

উপজেলা বাইশপাড়া গ্রামের হালিমা, আলেমা, শাহিনা খাতুন বলেন, নিজে গোরে খাবার জোগামু না গরু ছাগলের খাবার জোগামু! আমরা কোনো রিলিফ সাহায্য পাই নাই। দুইরার বাড়িতে গেলাম, আবারও বন্যার পানি বাড়ায় এহন মহাবিপদে পড়ছি।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান বলেন, পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে জিআর  চাউল, শুকনা খাবার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে। উপজেলার সকল বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় উপজেলা সদরসহ বাঁধের ভেতর ও বাহিরে বসবাসকারী প্রায় সকলেই বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। 

ইত্তেফাক/এসি