সোনাহাটা স্থলবন্দর সড়ক বেহাল, ভোগান্তিতে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ১৮:১৩

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী থেকে সোনাহাট স্থলবন্দরগামী অ্যাপ্রোচ সড়কের সোনাহাট ব্রিজ থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্য আমদানী-রপ্তানীকারকরা। দেশের ১৮তম স্থলবন্দটির সড়ক সংস্কারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি ও অনিয়মের কারণে ভরা বর্ষায় খানা-খন্দে ভরে গেছে। এতে বাংলাদেশ ও ভারতের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি।

জানাগেছে, এডিপি’র অর্থায়নে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সোনাহাট ব্রিজ থেকে স্থলবন্দর পর্যন্ত সড়কের কাজ শুরু করা হয় গত বছরের ৫ ডিসেম্বর। সড়কটি বাস্তবায়ন করছে কুড়িগ্রাম রোডস এন্ড হাইওয়ের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টার প্রাইজ প্রা. লি.।

আমদানী ও রপ্তানীকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সড়ক সংস্কারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতি ও চরম গাফিলাতির কারণে স্থলবন্দরগামী সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। একটু বৃষ্টি হলেই পণ্যবাহী  ট্রাক গর্তে ফেসে বিকল হয়ে যাচ্ছে। 

আরও পড়ুন: আজ বাঙালির মহানায়ক উত্তমকুমারের মৃত্যুবার্ষিকী

স্থলবন্দরগামী এই সড়কে প্রতিদিন প্রায় ২০০ ভারতীয় গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশ করতো।  কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে গাড়ি আসছে ২০ থেকে ৩০টি। এতে একদিকে যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার অপরদিকে বন্দর ব্যবসায়ীদের লোকসানের পাল্লাও ভারি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের জানালেও তারা এখনও ব্যবস্থা নেননি।

সরেজমিন, রাস্তার এমন বেহাল অবস্থা চোখে পড়ে। 

ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার আবুল হোসেন ও খলিল শেখ বলেন, পণ্য বোঝাই ট্রাক কাদা কিংবা খানা-খন্দে ফেঁসে গেলে গাড়ির অনেক যন্ত্রপাতি বিকল ও ভেঙ্গে যায়। এগুলো মেরামত করতে দুই চার দিন সময় লেগে যায়। ফলে আমরা বাংলাদেশে ট্রাক নিয়ে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি।

বন্দর ট্রাফিক ইন্সপেক্টর কিবরিয়া জলিল তুহিন এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে সংক্ষুদ্ধ আসাম বেল্টের কারণে এ বন্দরটি বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকে উপরোন্তু সড়ক খারাপ হওয়ার কারণে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০টি গাড়ি খানাখন্দে ফেসে যাওয়ায় ভারত থেকে গাড়ি কম আসছে। এতে বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

রোডস এন্ড হাইওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী নুরায়ইন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা শীঘ্রই সড়কটির কাজ শুরু করবে। 

ইত্তেফাক/এসি