সিরাজগঞ্জে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ চরমে 

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২০, ১৮:২৪

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানিবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার সকালে ৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাঁধের হার্ডপয়েন্টে বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার  ও কাজিপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। 

তৃতীয় দফায় তিন ধরে যমুনার পানি বাড়তে থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। চলমান বন্যা টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে চলছে। এরই মধ্যে জেলার বন্যা কবলিত ৬টি উপজেলা সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়ার তিন লাখ ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ক্ষেতের ফসল। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। গবাদিপশু, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, থাকা-খাওয়া নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বানভাসিরা। পানি যত বাড়ছে বিভিন্ন স্থানে তত তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন। বন্যা দুর্গত এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সরকারি ত্রাণ চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় অনেক স্থানে বানভাসিরা ত্রাণ পাচ্ছে না। বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষেরা দীর্ঘ ১ মাসের বেশি সময় ধরে নৌকায় ও ঘরের ভিতর পানির মধ্যে বসবাস করায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে ভুগছেন। 

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ডক্টর ফারুক আহম্মদ জানান, বন্যার্তদের জন্য ২৬৭ মেট্রিক টন চাল, ৩৯৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার ছাড়াও শিশুখাদ্য ও গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা করে মোট চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। 

আরো পড়ুন : হাইকোর্টে অবকাশে মামলা শুনানি নিষ্পত্তিতে ১২ বেঞ্চ

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম জানান, জেলায় ৭৮ হাজার ৪৫৭টি পরিবারের তিন লাখ ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে সাড়ে ৫৩ কিলোমিটার রাস্তা ও বাঁধ এবং ৩৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চারটি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন এবং তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক। এ ছাড়া ৬৩৩টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ এবং পাঁচ হাজার ৮০৫টি ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ১৪ হাজার ১৩ হেক্টর জমির ফসল। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৪০০ টন (জিআর) চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ১৪২ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে মজুদ আছে ২৫৮ টন চাল। শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্যের জন্য চার লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।


ইত্তেফাক/ইউবি