পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অত্যন্ত সুস্বাদু ফল স্টার আপেল বেশ জনপ্রিয়। স্টার আপেল অনেক মিষ্টি এবং সুস্বাদু হওয়ার কারণে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। বিদেশি ফল স্টার আপেলের চাষ আমাদের দেশে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই ফলের চাষ করা হয়েছে। গাছগুলো বেশ বড় হয়। স্টার আপেল কাঁচা অবস্থায় সবুজ বর্ণের থাকে। ফলগুলো পাকলে হালকা বেগুনি বর্ণ ধারণ করে। ফলের ভিতরে মাঝে সাদা এবং চারপাশে বেশ উজ্জ্বল রঙ বিদ্যমান। ফলের ভিতরে চারটি বিচি থাকে, দেখতে গাবের বিচির মতো। স্পেনে এই ফলকে কাইমিটা বা এস্টেরেলা, ওয়েস্ট ইন্ডিজে পাম সুরেট, বারবাডোজে স্টার পাম, কলম্বিয়াতে কাইসো, আর্জেন্টিনাতে আগুয়ে বা অলিভেরা, চীন বা সিঙ্গাপুরে চিকল ডুরিয়ন বলা হয়। তবে এর ভেতরের বীজগুলো এবং পাল্প স্টারের মতো থাকায় এটাকে স্টার আপেল বলা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া স্টার আপেল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। গরম আবহাওয়ায় স্টার আপেলের ফল ভালো হয়। তাপমাত্র হিমাংকের নিচে নেমে গেলে এই গাছ মারা যায়। স্টার আপেল যেকোনো ধরনের সুনিষ্কাশিত গভীরতাসম্পন্ন বেলে থেকে এঁটেল মাটিতে চাষ করা যেতে পারে। স্টার আপেলের ফল ত্বকের রঙ অনুসারে দুই জাত দেখা যায়। একটি সবুজ এবং অন্যটি বেগুনি রঙের হয়ে থাকে। ভালো ফল ধরে এমন গাছ থেকে অঙ্গজ উপায়ে তৈরিকৃত কলম লাগানো ভালো। শাখা কলমের চারা দুই-চার বছর পর অপরদিকে বীজের চারায় ৭-১০ বছর বয়সে ফল দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে স্টার আপেল বীজ থেকে উত্পন্ন চারা ব্যবহার করা হয়। এর বীজে বেশ কয়েকমাস অঙ্কুরোদ্গম ক্ষমতা থাকে এবং রোপণের পর দ্রুত (৭-১০) দিনে চারা গজায়। গুটি কলমে চার-সাত মাসে শিকড় আসে। একই জাতের গাছের বীজ থেকে উত্পাদিত চারার ওপর বাডিং বা গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমেও বংশবিস্তার করা যায়। বাডিং বা গ্রাফটিংয়ের চারা লাগানোর এক-দুই বছর পরই গাছে ফল ধরতে শুরু করে।
অপরদিকে বীজ চারা থেকে রোপিত গাছ পাঁচ থেকে ১০ বছর পর ফল ধরে। ভালো নিকাশযুক্ত যে কোনো মাটিতে স্টার আপেল গাছ ভালো জন্মায়। স্টার আপেল গাছে তেমন সার প্রয়োগ করা হয় না তবে দুর্বল মাটিতে সার প্রয়োগের কারণে ফলের আকার ও ফলন বাড়ে। শীতের শেষ থেকে গ্রীষ্মের প্রথম পর্যন্ত স্টার আপেলের পাকা ফল সংগ্রহ করা যায়। তবে আমাদের দেশে চৈত্রমাসে (মার্চ-এপ্রিল) সবচেয়ে বেশি পাকা স্টার আপেল পাওয়া যায়।
