একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয় পেয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল নির্বাচনে কারচুপিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু সেই অভিযোগের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে পাঠানো অভিনন্দন বার্তার বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুশ্চিন্তামুক্ত। গত ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমটি বার্তা সংস্থা এপির বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনটি শুক্রবার প্রকাশ করে।
আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের ধারাবাহিক অভিনন্দন বার্তার কারণে তদন্তের প্রশ্নে চাপমুক্ত থাকতে পারছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুভেচ্ছার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রধানমন্ত্রীকে নির্ভার রেখেছে।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিগত ১০ বছরের শাসনামলে শেখ হাসিনা প্রভাবশালী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে সফল সম্পর্ক গড়তে সক্ষম হয়েছেন। পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন তিনি। উন্নয়ন আর সমৃদ্ধির প্রশ্নে বাংলাদেশ এখন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নির্বাচনে শেখ হাসিনার নিরঙ্কুশ বিজয় বিশ্ববাসীর সামনে হাজির হয়েছে ভোটারদের রাজনৈতিক সমর্থনের প্রমাণ হিসেবে। হুমায়ুন কবির মনে করছেন, ভোটের ফলাফলের পর বাংলাদেশের কীর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলছে আর দুর্দান্ত ফলাফলের জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে।
৩০০ আসনের মধ্যে (একটিতে নির্বাচন হয়নি) আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮ আসন পেয়েছে। বিরোধী জোট মাত্র সাতটি আসন পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের সময়ে ওঠা অনিয়মের অভিযোগের কারণে প্রথমদিকে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট ছিল না। অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অভিনন্দন বার্তা দেওয়ার পর। পরপরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং অভিনন্দন বার্তা পাঠান। প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি আরব, রাশিয়া, কাতার, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভুটান এবং পাকিস্তানও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ের পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত, চীন, রাশিয়া এবং সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পরও তিনি একই কাজ করেন। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে বাংলাদেশ সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন ৩৪ জাতির ইসলামিক মিলিটারি কোয়ালিশনে যোগ দিয়েছে। রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতায় বাংলাদেশ প্রথম পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। চীন থেকে দুটি সাবমেরিন কিনেছে এবং জাপানকে অবকাঠামো খাত বিশেষ করে বিদ্যুত্ খাতে বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছে।
