বন্যায় মির্জাপুরে দুই লাখ মানুষের চরম দুর্ভোগ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২০, ১০:০৬

গত ২৪ ঘণ্টায় বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি বৃদ্ধি,  যমুনা, ধলেশ্বরী এবং বংশাই-লৌহজং নদীর পানি বিপদ সীমার ৮৮ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল গনি জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে।
বন্যার পানি প্রবেশ করেছে উপজেলা সদরের কুমুদিনী হাসপাতাল কমপ্লেক্স, হাসপাতাল রোড, শেখ রাসেল স্টেডিয়ামসহ পৌরসভার অধিকাংশ এলাকা। বন্যার পানি প্রবেশ করেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের অধিকাংশ আঞ্চলিক সড়কসহ দেড় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট বাজার। বন্যা কবলিত হওয়ায় উপজেলা সদর থেকে ৮ ইউনিয়ন সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মো. এশাব্বর হোসেন এমপি এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেছেন, বন্যা দুর্গত এলাকায় সর্বদা খোঁজ খবর নিয়ে ত্রাণ তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

শনিবার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  বন্যার পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আঞ্চলিক রোডের মধ্যে মির্জাপুর-ওয়ার্শি-বালিয়া রোড, মির্জাপুর-ভাওড়া-কামারপাড়া রোড, দেওহাটা-বহুরিয়া-ধানতারা রোড, কুরনী-ফতেপুর রোড, কদিমধল্যা-বরাটি রোড, বানিয়ারা-বাসাইল রোড,ডুবাইল-মহেড়া-ফতেপুর রোড, পাকুল্যা-দেলদুয়ার রোড, কাটরা-উফুলকী রোডসহ অধিকাংশ এলাকার আঞ্চলিক রোড ডুবে গিয়ে সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া কুমুদিনী হাসপাতাল এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে পানি প্রবেশ করেছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রেও পানি প্রবেশ করায় চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে। এক দিকে করোনা অপর দিকে বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে কোরবানীর পশু নিয়ে চরম বিপাকে দেড় শতাধিক খামারী এবং বেপারিগণ বলে জানিয়েছেন।

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও মহেড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া  জানান, ফতেপুর, লতিফপুর, মহেড়া, জামুর্কি, বহুরিয়া, ভাওড়া, ভাদগ্রাম, ওয়ার্শি, বানাইল এবং আনাইতারা ইউনিয়নের আঞ্চলিক সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। ইতিমধ্যে ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদ, বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদসহ তার ইউনিয়নে অধিকাংশ রাস্তা-ঘাট ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কামারপাড়া বাজার, বহুরিয়া হাটি, বরাটি হাট, দেওহাটা গরুর হাট, মাঝালিয়া হাট, ফতেপুর হাটসহ ৮ ইউনিয়নের অধিকাংশ হাট-বাজারে বন্যার পানি উঠায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতাসহ ব্যবসায়ীরা। পানি বৃদ্ধির ফলে বংশাই নদীর ফতেপুর, হিলড়া আদাবাড়ি, থলপাড়া, বৈন্যাতলী, চাকলেশ্বর, গোড়াইল, গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, ত্রিমোহন, বান্দরমারা, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। একই অবস্থা লৌহজং নদীর মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা।

বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পৌরসভার আলহাজ্ব শফিউদ্দিন মিয়া এন্ড একাব্বর হোসেন টেকনিক্যাল কলেজ, মির্জাপুর মহিল ডিগ্রি কলেজ, আগধল্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুইচতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরাটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পানি ঢুকেছে। কুমুদিনী হাসপাতালে বন্যার পানি প্রবেশ করায় চিকিৎসা সেবা ব্যহিত হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার রাস্তার তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। বন্যার পানি কমার পর বরাদ্দ এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগুলো মেরামত করা হবে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেক মোস্তাকিম এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) মীর্জা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন,  বন্যা কবলিত এবং নদী ভাঙ্গন এলাকা গতকাল শুক্রবার পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমআরএম