উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২০, ২০:৪৭

বর্তমানে সকল তরুণের কাছে একটা চাকরি সোনার হরিণের মতো। কিন্তু সেই সোনার হরিণের দিকে না ছুটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র উদ্যোক্তা হওয়ার পথ বেছে নেন। তারা হলেন সাইফুদ্দিন শামীম ও মো. আমজাদ হোসেন।

সাইফুদ্দীন শামীম পড়েছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে এবং মো. আমজাদ হোসেন পড়ছেন অর্থনীতি বিভাগে। শামীম কিছু সময় শিক্ষকতা করলেও মন বসাতে পারেননি শিক্ষকতায়। তাই, চাকরি ছেড়ে চলে আসলেন নিজের মতো বাঁচার জন্য, কাজ করার জন্য। চট্টগ্রামের নিজ বাসায় এসে বন্ধুর সঙ্গে খুলে ফেলেন পার্টনারশিপ ফার্ম ‘লফটি ইন্টারন্যাশনাল’। এই ফার্মটি কাজ করছে কায়াকিং নিয়ে। এখন পর্যন্ত তারা প্রায় ৮০,০০০ কায়াকিং ও ৪০০০ ক্যাম্পিং কাস্টমারকে সেবা দিয়েছে। মহামায়া লেক থেকে খাগড়াছড়ির মায়াবিনী লেক সেখান থেকে সিলেটের রাতারগুল তারপর রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেক ও বসুন্ধরা রিভারভিউ লেক পর্যন্ত  ‘লফটি ইন্টারন্যাশনাল’ তাদের সেবা পৌঁছাতে পেরেছে।

বর্তমানে সাইফুদ্দিন শামীম ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মেরিটাইম ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজম্যান্ট’—এ এমবিএ করছেন। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কায়াকিংকে বাংলাদেশে জনপ্রিয় ওয়াটার স্পোর্টস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। তারপর, বাংলাদেশ কায়াকিং ফেডারেশন করে যারা কায়াকিংয়ের ব্যাপারে আগ্রহী তাদেরকে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেন বাংলাদেশে হতে অলিম্পিক গেইমস, এশিয়ান গেইমস এবং ওয়ার্ল্ড কায়াকিং চ্যাম্পিয়নশিপ এসব আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে আসতে পারে।’

অন্যদিকে, আমজাদ হেঁটে চলছিলেন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। শিক্ষকদের উত্সাহ ও সহযোগিতায় বিভিন্ন  বিষয়ে গবেষণাও করেছেন তিনি। ‘অর্গানিক ও স্বদেশী খাবারের সঙ্গে ভোক্তার আচরণজনিত তারতম্য’ শীর্ষক গবেষণাটি হলো সেরকম একটি গবেষণা। সেই গবেষণার মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি এই খাতের সম্ভাবনা দেখতে পান। তাই, তিনি গড়ে তুলেন অর্গানিক খাবার নির্ভর প্রতিষ্ঠান ‘স্বদেশী স্বাদ’। সাধারণত, ‘স্বদেশী স্বাদ’ প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরের ইলিশ, নোনা ইলিশ, ইলিশের ডিম ও নদীর বিভিন্ন রকমের মাছ, চাকভাঙ্গা মধু, অর্গানিক শুঁটকি ছাড়াও বিভিন্ন ক্যামিকেল মুক্ত সিজনাল ফল সরবরাহ করে থাকে। পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করে যাওয়া কষ্টকর তবুও উদ্যোক্তা আমজাদ নিষ্ঠার সঙ্গে তার কাজ করে যাচ্ছেন। অর্গানিক ফুড ডেলিভারি দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয় এমন প্রশ্নে উদ্যোক্তা আমজাদ বলেন, ‘অর্গানিক খাবারকে সঠিক সময়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টসাধ্য ব্যাপার। প্রায়ই দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কাজ করতে হয়। কারণ, এসব খাবারে কোনো ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার হয় না। তাই, অতি অল্প সময়ের মধ্যে একজন ভোক্তার কাছে খাবারগুলো পৌঁছে দিতে হয়।’

দুটো মাত্র কায়াক (কায়াকিং করার বিশেষ ধরনের নৌকা) নিয়ে শুরু করা শামীম কিংবা গবেষণা করতে গিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার হাতেখড়ি পাওয়া আমজাদ; এদের কারো পথ কখনো মসৃন ছিল না। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন সবাই একসময় তাদের বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু পরিশ্রম, সততা তাদের নিয়ে গিয়েছে সাফল্যের কাছে। চাকরির পিছনে না ছুটে চাকরি দিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথে হাঁটা অধিকতর আনন্দের। এ ভাবেই তরুণরা এগিয়ে আসলে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।