‘রূপকথা’র রূপম

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২০, ২০:৩৯

মেয়েটির নাম রূপম। গ্রামের বাড়ি তার শরীয়তপুরের জাজিরাতে। একসময় বুকে অজানা স্বপ্নকে লালন করে পড়াশুনা শুরু করেন রাজধানীর গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে টেক্সটাইল বিষয়ে। ২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন চাকুরীজীবী মারুফকে। জাজিরার সেই রূপম একসময় চাকুরী শুরু করেন রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস’রএ স্মাইল গার্ডেন স্কুলে। কিন্তু গেলো ফেব্রুয়ারি মাস অর্থাত্ বিয়ের মাসটি ছিলো তার জীবনের জন্য একটি অন্যরকম দিন। রূপম নিজে উপটান তৈরি করে নিজেই ব্যবহার করতেন। একসময় তার ত্বকের মসৃণতা দেখে তার কাছের মানুষেরা প্রশ্ন করেন, তার ত্বকের মসৃণতা নিয়ে। রূপম বেশ অনায়াসেই স্বীকার করেন তার নিজের তৈরি উপটানের কথা। চেনা জানা সবাই তার কাছে সেই উপটান চাইতে শুরু করেন। কিন্তু যারা নিয়মিত চাওয়া শুরু করেন তারাই মূলত তাকে অর্থের বিনিময়ে তা নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। যে কারণে গেলো ফেব্রুয়ারিতে রূপম নিজেই উপটান বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজে শ্রম দিয়ে তৈরী শুরু করলেন। তার তৈরী পণ্য সম্পর্কে সবাই যেন খুব সহজে অবগত হতে পারেন সে কারণে তিনি তার তৈরি পণ্যের নাম নিজেই রাখলেন ‘রূপকথা’। এই নামে ফেসবুকে একটি পেজও আছে। এখন শুধুই উপটান নয় এর পাশাপাশি তিনি হেয়ার প্যাকও তৈরি করছেন। দুটো আইটেম-এর প্রত্যেকটির মূল্য রাখা হচ্ছে তিনশত টাকা। দিন দিন রূপমের ‘রূপকথা’ যেন অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রূপমের তৈরিকৃত উপটান এখন দেশের বাইরেও রপ্তানি হচ্ছে। খুব অল্প সময়ে এমন সাফল্যে ভীষণ উচ্ছসিত রূপম। রূপম বলেন, ‘এতোটা সাড়া পাবো ভাবিনি। আমার বড় বোনরা আমাকে সবসময়ই অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি আমার বন্ধু বান্ধব যারা আছেন এবং শুভাকাঙ্খী যারা আছেন তারাও আমাকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। যে কারণে আমি আমার কাজে ধারাবাহিকতা রেখেছি। মূলকথা পরিবারের সহযোগিতা পাচ্ছি বলেই রূপকথাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। ভবিষ্যতে কী হয় জানিনা, তবে অনেকের মতো আমিও রূপকথাকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখি।’